
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চলতি বোরো মৌসুমে ফলন ভালো হলেও ধানের কম দাম ও শ্রমিকের উচ্চ মজুরির কারণে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
“দুই মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে। এই ডাঙ্গায় আট বিঘা জমি লাগাইছি। খরচ হইছে তিন লাখের বেশি। কিষান কিনছি ১৪শ টাকা কইরা। আর ধানের মণ বিক্রি করতেছি ৮শ টাকায়। এভাবে চাষাবাদ কইরা আর পারমু না”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বালাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক শহীদ মোল্লা।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে নিজ জমিতে বসে তিনি জানান, ধানের উৎপাদন ভালো হলেও বাজারদর কম থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটার খরচও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে টুঙ্গিপাড়ায় ৮ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬৮ হাজার ৩২৪ মেট্রিক টন। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলনও হয়েছে আশানুরূপ।
মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে ধান আবাদে খরচ পড়েছে প্রায় ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ও পরিচর্যার পাশাপাশি শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটার খরচও বেড়েছে ব্যাপকভাবে।
কৃষকদের দাবি, এক বিঘা জমির ধান কাটতে অন্তত আটজন শ্রমিক লাগে। প্রতিজন শ্রমিকের মজুরি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা হওয়ায় শুধু ধান কাটতেই খরচ হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। অথচ প্রতি বিঘায় গড়ে ২৪ থেকে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হলেও বর্তমান বাজারদরে তা বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ হাজার টাকার মতো। ফলে প্রতি বিঘায় তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে আগামী মৌসুমে অনেকেই চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।