ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলার আসামির জামিন: ২ আইনজীবীর কার্যালয়ে ভাঙচুর।

মাগুরায় ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান রাব্বি হত্যা মামলার দুই আসামির জামিনকে কেন্দ্র করে দুই আইনজীবীর কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা দেড়টার দিকে শহরের জেলাপাড়া এলাকায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে আইনজীবী সমিতির পাশেই এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেলা দুইটার দিকে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল আইনজীবী হাবিবুর রহমান (লাবু) ও মো. উজ্জ্বল হোসেনের পৃথক দুটি কার্যালয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা চেয়ার, টেবিল, আলমারি ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে।
এ সময় হামলাকারীরা অভিযোগ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাব্বি হত্যা মামলার দুই আসামিকে জামিন পেতে সহায়তা করেছেন ওই দুই আইনজীবী। তবে হামলায় জড়িতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আইনজীবী মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, হাইকোর্ট থেকে এক আসামির জামিন হওয়ার পর তিনি শুধু বেলবন্ডে স্বাক্ষর করেছিলেন। ব্যক্তিগত পরিচয়ের কারণে তাঁর সামনে নথি আনা হলে তিনি সই করেন। এর বাইরে মামলার বিষয়ে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
অন্য আইনজীবী হাবিবুর রহমান জানান, হঠাৎ ৪০-৫০ জনের একটি দল এসে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর চেম্বারে ভাঙচুর চালায়, এতে টেবিল, চেয়ার ও আলমারিসহ বিভিন্ন আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, তাঁর মক্কেল আসামি আজিম প্রায় দুই মাস আগে জামিন পেয়েছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে অন্য আসামি হেদায়েত কোরাইশের জামিনের বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে এ হামলা হয়েছে।
ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পারনান্দুয়ালী এলাকায় গুলিতে নিহত হন ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান রাব্বি। এ ঘটনায় তাঁর ভাই ইউনুস আলী বাদী হয়ে ১৩ আগস্ট রাতে মাগুরা সদর থানায় সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আজিম গত ৩০ মার্চ জামিনে মুক্তি পান। অন্য আসামি হেদায়েত কোরাইশ ২৩ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার চারজন আসামি জেলা কারাগারে রয়েছেন।