
বিএনপি চেয়ারপারসনের দায়িত্বে থাকা তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে ঘোষিত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই কার্ডভিত্তিক একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে গঠিত এই সরকারের মূল লক্ষ্য—ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে সরাসরি জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগ
ফ্যামিলি কার্ড: সামাজিক সুরক্ষার কেন্দ্রবিন্দু
‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি মূলত নিম্নআয় ও প্রান্তিক পরিবারের জন্য চালু করা হলেও ধাপে ধাপে সব পরিবারের নারী সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপণ্য সরবরাহ, সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে অর্থ প্রদান এবং সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যপণ্য কেনার সুযোগ—এই কার্ডের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী বা বিলাসী সম্পদের মালিকরা এই সুবিধার বাইরে থাকবে।
কৃষক কার্ড: কৃষিতে ডিজিটাল রূপান্তর
কৃষকদের জন্য চালু হওয়া ‘কৃষক কার্ড’ পাঁচটি শ্রেণিতে বিভক্ত। এর মাধ্যমে কৃষিঋণ, ভর্তুকি, বীমা, বাজার তথ্য এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সরকার পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ২.৭৫ কোটি কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
ক্রীড়া কার্ড: খেলোয়াড়দের পেশাগত নিরাপত্তা
জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘ক্রীড়া কার্ড’ চালু করে মাসিক ভাতা, উন্নত প্রশিক্ষণ, চিকিৎসাসেবা এবং পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে মাসিক এক লাখ টাকা ভাতা দে।
ই-হেলথ কার্ড: স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল সংযোগ
‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিচয় তৈরি করা হবে। এতে রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং ইউনিক হেলথ আইডি সংরক্ষিত থাকবে, যা দেশের যেকোনো হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
প্রবাসী কার্ড: রেমিট্যান্স ও নিরাপত্তা
প্রবাসীদের জন্য পরিকল্পিত ‘প্রবাসী কার্ড’ ব্যাংকিং সুবিধা সহজ করা, বৈধ পথে রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা ঋণ ও পুনর্বাসন সুবিধাও দেওয়া হবে।
এলপিজি কার্ড: জ্বালানি সহায়তা
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ভর্তুকিতে এলপিজি গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে ‘এলপিজি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা বিশেষ করে নারী স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।
ফ্রিল্যান্সার কার্ড: ডিজিটাল অর্থনীতির স্বীকৃতি
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সরকারি স্বীকৃতি দিতে ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আয় ও পেশাগত পরিচয় প্রমাণ সহজ হবে এবং ব্যাংকিং, লোন ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সুবিধা বাড়বে।
ফুয়েল কার্ড: জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ
জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা আনতে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ চালু করা হয়েছে, যা জ্বালানি বিতরণকে স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করবে।
সরকারের দাবি, এসব কর্মসূচি ‘ব্যক্তি নয়, পরিবার’—এই ধারণাকে কেন্দ্র করে সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করবে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেবে। নির্বাচনী ইশতেহারের ৯টি অঙ্গীকার ও ৫১ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কার্ডভিত্তিক উদ্যোগগুলোকে একটি বৃহৎ রাষ্ট্রীয় সংস্কার কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ঃTDA