ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বিরকে টেনেহিঁচড়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ঘিরে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেনকে টেনেহিঁচড়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শান্তিনিকেতন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিকেলে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন সাব্বির হোসেন। এ সময় সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলামের অনুসারীরা সেখানে এসে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তারা সাব্বিরকে ক্যাম্পাস ছাড়ার আলটিমেটাম দেয়। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে এবং এক পর্যায়ে চ্যাংদোলা করে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
সূত্র জানায়, দুপুর পৌনে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে কর্মসূচির ডাক দেন সাব্বিরের অনুসারীরা। তবে কিছু সময় পর বৃষ্টির কারণে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পাশ কাটিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা এবং ভিন্ন ব্যানার ব্যবহারে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
সাব্বির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি দেওয়াকে কেন্দ্র করেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ গ্রুপ প্রশাসনের সঙ্গে সখ্যতার কারণে তার ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ মনোমালিন্য ছিল এবং ইতোমধ্যে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, উপাচার্যের পদত্যাগের ইস্যুকে কেন্দ্র করে কোনো ঘটনা ঘটেনি।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটলেও পরে আলোচনা করে তা মীমাংসা করা হয়েছে। তিনি জানান, দলীয় ব্যানারের বাইরে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে কর্মসূচি দেওয়াকে কেন্দ্র করে আপত্তি ছিল।
এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হলেও রাতের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।