ছিলটী ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন

সিলটি ভাষা ও নাগরী লিপি — রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি
সিলেট বিভাগভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’ সিলেটবাসীর মাতৃভাষা সিলটি ভাষাকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বলেন,
“ফেব্রুয়ারি মাস আমাদের ভাষা আন্দোলনের মাস। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই দিবসকে সামনে রেখে সিলটি ভাষাকে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় ভাষা ঘোষণা করা অপরিহার্য। সিলেট বিভাগের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষসহ বিশ্বের অসংখ্য মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন। বাংলা ভাষার পরে সিলটি ভাষাই বাংলাদেশের একমাত্র ভাষা, যার অক্ষর বা বর্ণমালা নাগরী লিপি নামে পরিচিত। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং বাংলা ভাষা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন,
“সিলটি ভাষায় শক্তিশালী সাহিত্য, কবিতা ও পুঁথি রচিত হয়েছে। বহু প্রবাসী এবং দেশি নাগরিক পিএইচডি করেছেন। আমাদের দাবি, সিলটি ভাষাকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার জন্য ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে।”
শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি — নাগরী অক্ষরের প্রসার
নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন,
“আজকের দিনে সিলটি নাগরী অক্ষরজ্ঞান সম্পূর্ণ অবহেলিত। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সিলটি নাগরী শিক্ষার চর্চা নেই। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি, সিলেট বিভাগের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সিলটি ভাষা ও নাগরী অক্ষর শিক্ষার ব্যবস্থা করা হোক।”
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
তিনি উদাহরণ টানেন,
“আমেরিকায় স্প্যানিশ, কানাডায় ফ্রেঞ্চ এবং যুক্তরাজ্যে গেইলেক ভাষা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চালু আছে। আন্তর্জাতিকভাবে সিলটি ভাষা বিশ্বের ৯৭তম ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। তাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মাসে সিলটি ভাষাকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা উচিত।”
ডিজিটাল যুগে ছিলটী ভাষার পুনর্জাগরণ — সিলেটের দুই তরুণের সাফল্য
ছিলটী ভাষার প্রযুক্তিগত বিকাশে বিশেষ অবদান রেখেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির দুই তরুণ ছাত্র — সাব্বির আহমদ ও নুরুল ইসলাম।
তারা ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো তৈরি করেন “সিলটী অ্যান্ড্রয়েড কিবোর্ড”, যার মাধ্যমে স্মার্টফোনে নাগরী লিপিতে লেখা সম্ভব হয়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সাব্বির অনলাইনে ছিলটী এপ ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেন, যা এই ভাষার ডিজিটাল প্রচারে নতুন অধ্যায় সূচনা করে।
🌐 https://syloti.app
বক্তারা মনে করেন, এই প্রযুক্তিগত উদ্যোগ ছিলটি ভাষার ডিজিটাল সংরক্ষণ ও বিশ্বব্যাপী প্রচারে নতুন দিগন্ত খুলেছে।
নাগরি লিপির বিশাল সাহিত্য ভাণ্ডার রয়েছে। নাগরি সিলেটিদের অস্তিত্ব তাই নাগরি সম্পর্কে সকলকে জানাতে সিলেট নগরীতে করা হয়েছে নাগরি চত্বর। সিলেট নগরের প্রবেশদ্বার কিনব্রিজের উত্তর পাড়ের চত্বরের নামকরণ করা হয়েছে নাগরি চত্বর। ২০১৪ সালে নাগরি বর্ণমালা দিয়ে এই চত্বরে একটি নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে অনেক সিলেটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নাগরি বর্ণমালার ব্যবহার করছেন। বাড়ির নেইমপ্লেইট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম, নিজের প্রিয় মানুষের কাঠে বা পাথরে খোদাই করে লিখে রাখছেন। অনেকেই নাগরি বর্ণমালার বই নিয়ে সন্তানদের পরিচিত করাচ্ছেন।