মানবিক বিবেচনায় সেই মহিলালীগ নেত্রীর জামিন।

রাজধানীর তেজগাঁও থানায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর চার ঘণ্টার মাথায় জামিন দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন নামঞ্জুর করে দেড় মাস বয়সী সন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানসহ শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আদালতে আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মামলার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে আসামি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন বলেও মত দেওয়া হয়।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি জানান, শিল্পী বেগমের ১ মাস ১৬ দিনের পুত্রসন্তান রয়েছে এবং তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়েছে। যেকোনো শর্তে জামিন দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। পরবর্তীতে ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় শিল্পী বেগমের নির্দেশে ১২০-১৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালায়। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি এবং তিন লাখ টাকার মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বাসার সামনে বোমা বিস্ফোরণও ঘটানো হয় এবং শিক্ষার্থীর বাবা সোহেল রানাকে মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়।