জুলাইয়ের আইকনিক জানাজার ইমাম, এনসিপি নেতা তারেক রেজা ছাত্রদলের মামলায় গ্রেফতার।

ঝিনাইদহে এনসিপি ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে তার ইমামতি করা একটি গায়েবানা জানাজার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই সারাদেশে নিহতদের মাগফেরাত কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে গায়েবানা জানাজা আদায় করেন আন্দোলনকারীরা। সেই জানাজায় ইমামতি করেন তারেক রেজা।
ইমামতি করা সেই ছবি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব রাফে সালমান রিফাত। তিনি লেখেন, “জুলাইয়ের আইকনিক এই জানাজার ইমাম, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোটা দেশ দেখেছে ঝিনাইদহে কী হয়েছে। উপরন্তু রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িতের উপর এখন চলছে আইনী ও প্রশাসনিক নিপীড়ন। সেই অসুস্থ পুলিশি নৈরাষ্ট্রের পুনরাগমন!”
এছাড়াও জানাজার ছবিটি শেয়ার করেছেন জাতীয় সংসদের এমপি ডা. মাহমুদা মিতু ও হাসনাত আব্দুল্লাহ।
ফেসবুক পোস্টে মাহমুদা মিতু লেখেন, “বাংলাদেশে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি শহীদের জানাজা পড়াইছেন তারেক রেজা। গত কালের ঝিনাইদহে নাসিরের উপর হামলাকে কেন্দ্র করে তারেকের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। যেই হাতে এইরকম একটা মানুষের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার তথাকথিত মিথ্যা মামলা দেয়া হইসে, সেই হাত ধ্বংস হোক।”
জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেন তারেক রেজা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিলনায়তনের সামনে পৌঁছালে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের সময় ঘটনাস্থলে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামানসহ পুলিশ, সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত। তিনি বলেন, ছাত্রদলের মামলায় তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই মামলায় যুবশক্তি নেতা অয়ন রহমান খানকেও আটকের অভিযোগ রয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান বলেন, হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে শনিবার তারেক রেজাসহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়েছে। মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।