ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির প্রতিশোধ নিতে ৪ ভাই মিলে খুন, দাবি পিবিআই

ময়মনসিংহ নগরের একটি ভাড়াবাসায় যুবক রাজিব আহম্মেদ রুবেল (৪০) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির দাবি, বাড়িওয়ালাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে তার চার ছেলে পরিকল্পিতভাবে রুবেলকে হত্যা করেন।
সোমবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় চার ভাই—রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি।
পিবিআই জানায়, প্রায় এক মাস আগে রুবেল ওই বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বাড়ির মালিক পারুলের আপত্তি ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাসায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে আড্ডা দিতেন এবং সেখানে মাদক সেবন করতেন। এ কারণে বাড়ির মালিক তাকে পরবর্তী মাস থেকে বাসা ছেড়ে দিতে বললেও তিনি সেখানে জোরপূর্বক থাকতে চান।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রোববার সকালে রুবেল বাড়িওয়ালা ও তার ছেলের কক্ষের দরজায় লাথি মেরে তাদের ঘুম থেকে তোলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি বাড়ির মালিককে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ।
পরে মায়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিশোধ নিতে চার ভাই পরিকল্পনা করে একটি চায়নিজ কুড়াল দিয়ে রুবেলের গলায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যার পর তারা পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পিবিআই।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে বাড়ির মালিক, তার তিন ছেলেসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এর আগে সোমবার সকালে ময়মনসিংহ নগরের ছত্রিশবাড়ি কলোনি এলাকার একটি ভাড়াবাসা থেকে রাজিব আহম্মেদ রুবেলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।