শনিবার ফের প্রকাশ্যে গণনা হবে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা আগামী শনিবার (১১ জুলাই) আবারও প্রকাশ্যে গণনা করা হবে। মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নির্ধারণে গঠিত ১১ সদস্যের কমিটির তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
কমিটির সদস্য, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার দুপুর ১২টায় মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে দানের অর্থ গণনা করা হবে। এ বিষয়ে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ২২ জুন প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত প্রথা ভেঙে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের ঐতিহাসিক দানের ডেক ও দানবাক্স খোলা হয়। গণনা শেষে সেখানে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। সেই অর্থ জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সোনালী ব্যাংকের একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।
এর আগে গত ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে ১৮ জুন মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেক ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়।
প্রকাশ্যে দানবাক্স খোলা ও নতুন ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। একদিকে অনেকে উদ্যোগটিকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানান, অন্যদিকে প্রশাসনের মাধ্যমে দানবাক্স স্থাপনের সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেন। এ ঘটনার পর সরকার সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয়। যদিও সরকারের একাধিক মন্ত্রী এ বদলিকে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ বলে মন্তব্য করেন।
পরবর্তীতে গত ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার, মাজারের মোতাওয়াল্লি পরিবারের দুই সদস্য এবং মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জেলা প্রশাসক।
নতুন গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে শনিবারের গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। গণনা শেষে প্রাপ্ত অর্থও আগের মতো জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত হিসাবেই জমা রাখা হবে।