অব্যবহৃত পড়ে থাকা দেশের ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা দেশের ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গত ১২ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘৩২০ কোটি টাকা খরচে ৬ শিশু হাসপাতালের ভবন পড়ে আছে’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও কুমিল্লায় আধুনিক ছয়টি হাসপাতাল ভবন নির্মাণ হলেও বছরের পর বছর সেগুলো চালু হয়নি।
এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এবং স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে অব্যবহৃত হাসপাতালগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে চালুর উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে আগামী ২ জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতির প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৈঠকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে আংশিক চালু থাকা ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়–এর অধীন সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নীলফামারীতে প্রস্তাবিত ১ হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চীনা দূতাবাসকে সম্পৃক্ত করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, নীলফামারী সদর উপজেলায় নির্মিতব্য বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উত্তরাঞ্চলে বিশেষায়িত চিকিৎসা অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে জটিল রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। হাসপাতালটি চালু হলে এটি রংপুর বিভাগসহ উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য একটি আঞ্চলিক রেফারেল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।