স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নয়: সংসদে জিএম সিরাজ

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কখনো বিচ্ছিন্ন হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ডিভোর্স হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ‘ডিভোর্স’ হতে পারে না।
সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
জিএম সিরাজ বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে আমি মোদি সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে বলতে চাই, পশ্চিমবঙ্গের যে বক্তব্যগুলো বাংলাদেশবিরোধী হিসেবে আসছে, সেগুলো দুই দেশের বন্ধুত্বের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা এখন অপ্রাসঙ্গিক। তাকে নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তিনি বাংলাদেশে নেই, ভবিষ্যতেও থাকবেন না।”
সমুদ্রসীমায় সম্পদ আহরণের প্রসঙ্গ তুলে জিএম সিরাজ বলেন, ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিজয় অর্জিত হলেও সম্পদ উত্তোলন করা যায়নি। তার দাবি, অতীতে বিদেশি প্রভাবের কারণে এ খাতে অগ্রগতি সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান সরকার অফশোর বিডিংয়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এতে কারও অনুমতির প্রয়োজন হয়নি।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা চাই দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় থাকুক। কারণ ভারত আমাদের প্রতিবেশী। বন্ধুত্ব ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও ডিভোর্স হতে পারে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো ডিভোর্স হতে পারে না। না ভারত বাংলাদেশকে অস্বীকার করতে পারবে, না বাংলাদেশ ভারতকে।”
বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জিএম সিরাজ বলেন, “তিনি বলেছেন, ‘আমরা একই আকাশ, একই বাতাসের নিচে’। আমি বলব, আসুন মানুষের হৃদয় জয় করি। দুই দেশের মানুষের মধ্যে হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে তুলি। ভারতবিরোধিতা কিংবা বাংলাদেশবিরোধিতা নয়, আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই।”
তিনি ভারতের প্রতি বাংলাদেশে কথিত ‘পুশ ইন’ বন্ধের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক উৎপাদনের কারখানাগুলো বন্ধে ভারত সরকারের কার্যকর পদক্ষেপও দাবি করেন।