
শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতের অভিযানের স্মৃতি ঘিরে আজও দেশে তীব্র বিতর্ক ও আবেগ বিরাজ করছে। দিনটি ‘শাপলা গণহত্যা দিবস’ হিসেবে স্মরণ করছে একটি অংশ, যেখানে ওই রাতে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে বিচার ও প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের শাস্তি এবং ১৩ দফা দাবিতে ঢাকায় সমাবেশে অংশ নিতে আসা হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের ওপর গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানের প্রকৃতি, ব্যবহৃত শক্তি এবং হতাহতের সংখ্যা নিয়ে শুরু থেকেই ভিন্নমত রয়েছে। তৎকালীন সরকার নিহতের সংখ্যা সীমিত বলে দাবি করলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সংগঠন ভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে।
মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ এক পর্যায়ে ৬১ জন নিহতের তালিকা প্রকাশ করে। অন্যদিকে সর্বশেষ তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ৩২ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে সাউন্ড গ্রেনেড ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগের প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা বর্তমানে নথিবদ্ধের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এই ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে নীরব থাকা অনেক পরিবার এখন নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ এবং বিচার দাবিতে সামনে আসছে। তাদের অভিযোগ, ঘটনার প্রকৃত সত্য দীর্ঘদিন আড়ালে ছিল এবং এখন তা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, ৫ মে’র ঘটনার দায়ে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।