কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের হলে সিট দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৩

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে নিয়মবহির্ভূতভাবে সিট দখল ও বহিরাগত তোলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর যুগ্ম আহ্বায়কসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এর তৃতীয় তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হলে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ ও মারধরের বিচারের দাবিতে রাতেই বিক্ষোভ করেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
অভিযুক্তরা হলেন— কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৮ম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান, একই ব্যাচের সাইফুল, ১২তম ব্যাচের তরিকুল এবং ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাত।
ভুক্তভোগীরা হলেন— নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৬তম ব্যাচের মাজহারুল ইসলাম আবির, অর্থনীতি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের তোফায়েল আহমেদ নিবিড় এবং একই ব্যাচের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী কাব্য। কাব্য বর্তমানে চিকিৎসাধীন। জানা গেছে, ভুক্তভোগীরাও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
সিট দখল নিয়ে উত্তেজনা
আবাসিক শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আতিকুর রহমান হল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ৫০০২ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেন এবং সেখানে ১৯তম আবর্তনের এক কর্মীকে তোলেন। একইভাবে ২০৪ নম্বর কক্ষে আরেক ছাত্রদল কর্মী সিফাতকে নিয়মবহির্ভূতভাবে রাখার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আতিকুর রহমান কয়েকজন অনাবাসিক শিক্ষার্থী ও কর্মীকে নিয়ে হলের বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে সিটে থাকার নির্দেশ দেন। এ নিয়ে মৌখিক বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয় এবং রাতের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মারধরের অভিযোগ
শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতিবাদ জানাতে গেলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভর উপস্থিতিতে আতিকুর রহমান নিবিড়ের কলার ধরে থাপ্পড় মারেন। বাধা দিতে গেলে আবিরকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং সৌরভ কাব্যকে নাকে ঘুষি মারা হয়, এতে তার নাক ফেটে যায়। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা ছুটে এলে অভিযুক্তরা হল এলাকা থেকে সরে যান।
কাব্যের বন্ধু ও ছাত্রদল কর্মী হুসাইন বিন আলি জানান, কাব্যের নাকের হাড় ভেঙে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে; তাকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী তোফায়েল আহমেদ নিবিড় অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে মারধর করা হয়েছে। ধাক্কা দেওয়ায় তার হাতেও আঘাত লাগে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রশাসনের বক্তব্য
অভিযুক্ত আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, সাংগঠনিকভাবে বিষয়টির সমাধান করা হবে।
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রাধ্যক্ষ ড. ম. জনি আলম বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। হল প্রশাসনের কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।