বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হিরো আলম–কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কের থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে ধাওয়া করে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর।
পুলিশ জানায়, বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১–এ দায়ের করা মামলায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। সম্প্রতি তিনি নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় তিনি ঢাকায় পালানোর চেষ্টা করলে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে শাজাহানপুর থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৬ মে এক নারী বাদী হয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় অপর পাঁচ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। পরে বিয়ের কথা বলে বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করা হয়। একপর্যায়ে নারীটি অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় মারধরের অভিযোগও রয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়; পরে তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই নারীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতে চলমান রয়েছে।