সর্বশেষ
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ২০২৯ সালের মধ্যে চার লেনে উন্নীত হবে।ফিলিস্তিনে ইসরাইলের আবারো গণগ্রেপ্তার।এবারের বিশ্বকাপ কি খেলতে পারবেন ব্রাজিলিয়ান সুপারসস্টার নেইমার?ইরান যুদ্ধের কারণে পেছাল এশিয়ান কাপের ড্রআসামে সংবাদপত্র কার্যালয়ে হামলায় সিপিজের উদ্বেগবিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দার্জিলিং সমস্যার সমাধান করা হবে: অমিত শাহআমি কেন মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলামরাজবাড়ীতে নারীকে মাইক্রোবাসে তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: তরুণদল নেতা সহো আটক ৩।চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ২০২৯ সালের মধ্যে চার লেনে উন্নীত হবে।ফিলিস্তিনে ইসরাইলের আবারো গণগ্রেপ্তার।এবারের বিশ্বকাপ কি খেলতে পারবেন ব্রাজিলিয়ান সুপারসস্টার নেইমার?ইরান যুদ্ধের কারণে পেছাল এশিয়ান কাপের ড্রআসামে সংবাদপত্র কার্যালয়ে হামলায় সিপিজের উদ্বেগবিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দার্জিলিং সমস্যার সমাধান করা হবে: অমিত শাহআমি কেন মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলামরাজবাড়ীতে নারীকে মাইক্রোবাসে তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: তরুণদল নেতা সহো আটক ৩।
Live Bangla Logo

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ‘ব্যাটল বাস’: বিশ্বজুড়ে এক জনপ্রিয় সংস্কৃতি

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ‘ব্যাটল বাস’: বিশ্বজুড়ে এক জনপ্রিয় সংস্কৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

গণতন্ত্রের উৎসবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছাতে প্রার্থীরা এখন আর কেবল সভা-সমাবেশে সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক প্রচারণার অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে সুসজ্জিত ‘ইলেকশন বাস’। বিশ্বের অন্তত ৫০টিরও বেশি দেশে বড় আকারের নির্বাচনী প্রচারণায় এই বাসের ব্যবহার নিয়মিত দেখা যায়।

বিশ্বজুড়ে বাসের ব্যবহার: কোন দেশে কেমন?

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রচারণার ধরণ ভিন্ন ভিন্ন:

  • যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ রাজনীতিতে একে বলা হয় ‘ব্যাটল বাস’ (Battle Bus)। কনজারভেটিভ, লেবার ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট—প্রতিটি বড় দলই আলাদা বাস ব্যবহার করে।
  • যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘বাস ট্যুর’ একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংয়ে মোড়ানো বিশাল সব বাস কয়েক হাজার মাইল পথ পাড়ি দেয়।
  • ভারত: ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ‘রথ যাত্রা’ বা আধুনিক লাক্সারি বাসের ব্যবহার আকাশচুম্বী। বিজেপি, কংগ্রেসের মতো বড় দলগুলো বুলেটপ্রুফ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন বাস ব্যবহার করে।
  • বাংলাদেশ: বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রচারণায় বাসের ব্যবহার বাড়ছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে মাল্টিমিডিয়া সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক বাসে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।
  • অন্যান্য দেশ: এছাড়া কানাডা, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় নির্বাচনী বাসের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।

ইতিহাসের পাতা: সর্বপ্রথম কে এই বাস ব্যবহার করেন?

নির্বাচনী প্রচারণায় বাসের ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরনো এবং এটি মূলত পশ্চিমা বিশ্ব থেকে শুরু হয়েছে।

১. যুক্তরাজ্যে প্রবর্তন: আধুনিক ‘ব্যাটল বাস’ এর জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয় ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ টনি বেন-কে (Tony Benn)। ১৯৭০-এর দশকে (বিশেষ করে ১৯৭৪ ও ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে) তিনি প্রথম বাসের ভেতর লাউডস্পিকার এবং বসার ব্যবস্থা করে গ্রাম থেকে গ্রামে প্রচারণা শুরু করেন।

২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপট: আমেরিকায় বাসে করে প্রচারণার ইতিহাস আরও পেছনে যায়। ১৯৪৮ সালে হ্যারি এস. ট্রুম্যানট্রেনের মাধ্যমে প্রচারণা চালালেও, ১৯৫২ সালে ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বাস ব্যবহার করে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর ধারা জনপ্রিয় করেন। তবে আধুনিক যুগে ১৯৯২ সালে বিল ক্লিনটন এবং আল গোর-এর ১,০০০ মাইলের বাস ট্যুর এই সংস্কৃতিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

কেন জনপ্রিয় এই ‘মুভিং অফিস’?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি সাধারণ বাসের চেয়ে একটি নির্বাচনী বাস অনেক বেশি কার্যকর কারণ:

  • চলমান বিলবোর্ড: বাসের গায়ে বড় বড় ছবি ও স্লোগান থাকায় এটি যেখানেই যায়, সেখানেই প্রচারণা হয়।
  • মিডিয়া সেন্টার: আধুনিক বাসের ভেতর সাংবাদিকদের জন্য জায়গা এবং ইন্টারনেট সুবিধা থাকে, ফলে প্রার্থীরা চলতে চলতেই সাক্ষাৎকার দিতে পারেন।
  • জনসংযোগ: আকাশপথে ভ্রমণের চেয়ে বাসে ভ্রমণ করলে তৃণমূলের মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বেশি থাকে।