সিলেট কারাগারে জামিন পাওয়ার পরও মুফতি আব্দুল্লাহ মায়মুনকে এক মাস আটকে রাখার অভিযোগ

সিলেট, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬: সিলেট জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, বিশিষ্ট আলেম ও মুফতি আব্দুল্লাহ মায়মুনকে সকল মামলায় জামিন মঞ্জুর হওয়ার পরও অবৈধভাবে এক মাস ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। এই অভিযোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্ট থেকে উঠে এসেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে আদালতের আদেশ অমান্য করে মুক্তি না দেওয়া হচ্ছে। 0 এই ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন তুলেছে এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে বলা হয়েছে, “আমরা কারাগারের সামনে অবস্থান করছি। আজ এক মাস হয়ে গেছে—সব মামলায় জামিন হয়েছে। বারবার আমরা এখানে এসে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি। তবু আদালতের আদেশ অমান্য করে এখনো তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।” 0 পোস্টটিতে সিলেটের স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এবং মুফতি আব্দুল্লাহ মায়মুনের সমর্থকরা কারাগারের সামনে অবস্থান নিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অভিযোগ অনুসারে, জামিনের কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যা আইনের লঙ্ঘন।
সিলেট জেলা কারাগারের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে ‘অবৈধ আটক’ হিসেবে চিহ্নিত করে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
পটভূমি ও পূর্বের ঘটনা
মুফতি আব্দুল্লাহ মায়মুন একজন পরিচিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, যিনি হাসিনা সরকারের আমলে কথিত ‘শারক্বীয়া’ নামক একটি দাওয়াতি সংগঠনের দাওয়াতি শাখার প্রধান হিসেবে ২০১৯ সালে বগুড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি এবং কারাভোগ করেন। ২০২০ সালের শেষের দিকে জামিনে মুক্তি পান, কিন্তু পরবর্তীতে জামিন বাতিল হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
সাম্প্রতিক মামলাগুলোতে জামিন মঞ্জুর হলেও কারাগার কর্তৃপক্ষের এই আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা প্রশাসনিক ত্রুটির ফল কিনা। মুফতি মায়মুনের সমর্থকরা দাবি করছেন, এটি আলেম-উলামাদের প্রতি অবিচারের অংশ।
প্রতিক্রিয়া ও দাবি
এই অভিযোগ উঠার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকজন ব্যবহারকারী অনুরূপ ঘটনার উল্লেখ করে বলেছেন যে, জেলে বন্দীদের জামিন বা প্যারোল না দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে সাধারণ হয়ে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ, সাদ্দাম নামক একজনের ক্ষেত্রে তার স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও প্যারোল না দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মুফতি মায়মুনের সমর্থকরা অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সরকারি সূত্র থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই প্রতিবেদনটি উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। আরও তথ্য পাওয়া গেলে আপডেট করা হবে।