সর্বশেষ
“আপনাদের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না”: বিএনপিকে ইসহাক।এনসিপিতে যোগ দিলেন যুবদলের ইসহাক, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কাফি ও ঢাবির মহিউদ্দিন রনি।জুমার নামাজ পড়িয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় ইমামের মৃত্যু।“তোমার বাবা-মা যেখানে থাকে, সেখানেও ছাত্রদল আছে”: আম্মারকে ছাত্রদল সভাপতি।চাঁদা না দেওয়ায় স্কুলে শিক্ষিকাকে জুতো পেটা করলেন বিএনপি নেতা।ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা।২ দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ জন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।শাহবাগে ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা“আপনাদের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না”: বিএনপিকে ইসহাক।এনসিপিতে যোগ দিলেন যুবদলের ইসহাক, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কাফি ও ঢাবির মহিউদ্দিন রনি।জুমার নামাজ পড়িয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় ইমামের মৃত্যু।“তোমার বাবা-মা যেখানে থাকে, সেখানেও ছাত্রদল আছে”: আম্মারকে ছাত্রদল সভাপতি।চাঁদা না দেওয়ায় স্কুলে শিক্ষিকাকে জুতো পেটা করলেন বিএনপি নেতা।ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা।২ দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ জন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।শাহবাগে ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা
Live Bangla Logo
নিউজ
পড়া হচ্ছে...

আ.লীগ নেতার ইজারা নেয়া খুলনা পার্কের দখলে বিএনপি নেতারা।

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর, ২০২৫
আ.লীগ নেতার ইজারা নেয়া খুলনা পার্কের দখলে বিএনপি নেতারা।

২০১৬ সালে পার্কটি ফারুকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে ১৫ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। ফারুককে সামনে রেখে পার্ক পরিচালনায় বিনিয়োগ করেছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেল, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও কেসিসির কাউন্সিলর আলী আকবর টিপুসহ পাঁচজন।

গণঅভ্যুত্থানের পর তারা আত্মগোপন করলে পার্কের নিয়ন্ত্রণ নেন খুলনা মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহাবুব হাসান পিয়ারু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি একরামুল হক হেলাল। তাদের সঙ্গে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৈয়েবুর রহমানেরও নাম এসেছে। অবশ্য তিনি তাঁর সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন।

গত বছর ডিসেম্বরে পার্ক হস্তান্তরের বিষয়ে ফারুকুল ইসলামের সঙ্গে চুক্তি করেন পিয়ারু ও হেলাল। চলতি বছর পার্কের পাশে কেসিসির জমিতে ১৮টি দোকান নির্মাণ করে ভাড়া তুলছেন তারা। কেসিসি বলছে, পার্ক হস্তান্তর চুক্তির কোনো বৈধতা নেই। অবৈধভাবে নির্মাণ করা স্থাপনা অপসারণের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

কেসিসি থেকে জানা গেছে, ময়ূর নদের তীরে ১৪ একর জমিতে পার্কটি নির্মাণে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। ২০১৩ সালে কাজ শেষ হওয়ার তিন বছর পর পার্ক ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কেসিসি। বার্ষিক সাড়ে সাত লাখ টাকা ইজারায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে পরিচালনার দায়িত্ব পান মেসার্স ফারুক এন্টারপ্রাইজের মালিক ফারুকুল ইসলাম। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়বে। সেই হিসাবে গত অর্থবছরে পার্ক ইজারার মূল্য ছিল ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, ইজারা নেওয়ার পর পার্ক আধুনিকায়নে শেখ সোহেল, আলী আকবর টিপু, জাকির হোসেন, ফারুকুল ইসলাম চুনি ও ফারুক হোসেন বিনিয়োগ করেন। তারা পার্কের ভেতর প্রায় ৩০ হাজার গাছ লাগান; চিড়িয়াখানা, ট্রেনসহ বিভিন্ন খেলনা স্থাপন করেন। কিন্তু নদীর পানির দুর্গন্ধ, নোংরা পরিবেশ, অশ্লীলতার কারণে পার্কটি জমে ওঠেনি। পার্কের প্রায় ২০ লাখ টাকা ভাড়া বকেয়া পড়ে।

গত বছর অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে গেলে চাপের মুখে পড়েন ফারুকুল ইসলাম। বকেয়া ভাড়া পরিশোধের জন্য কেসিসির চাপ, অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপে পড়েই পার্ক পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তরে বাধ্য হন। বকেয়া ভাড়া পরিশোধের দায়িত্ব যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গ্রহণ করলেও পার্কে স্থাপন করা খেলনা ও অন্যান্য বিনিয়োগের কোনো টাকা ফেরত পাননি তিনি। প্রতি মাসে ইজারার মূল্য এখনও ফারুকের নামেই পরিশোধ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি পার্কটি ঘুরে দেখা গেছে, দর্শনার্থী একেবারেই কম। ভেতরের সবকিছু আগের মতো রয়েছে। তবে পার্কের বাইরে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে কেসিসির জমিতে বেশ কিছু দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ১০ জন ব্যবসায়ী দোকান ভাড়ায় নিয়ে ব্যবসা করছেন। দৈনিক কেউ ১০০, কেউ ২০০, আবার কেউ ২৫০ টাকা করে ভাড়া দিচ্ছেন। যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের অনুগতরাই ভাড়ার টাকা তুলছেন।

কেসিসির পার্ক ইজারার চুক্তি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৫ নম্বর শর্ত ছিল পার্কের দক্ষিণ পাশে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে ফাঁকা জায়গা ইজারাবহির্ভূত থাকবে। ১৭ নম্বর শর্ত ছিল, পার্কটি কোনোভাবেই সাব-লিজ দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ পার্ক হস্তান্তর ও দোকান নির্মাণ– কোনোটি শর্ত মেনে হয়নি।

এ ব্যাপারে কেসিসির বৈষয়িক কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন বলেন, আইনত পার্ক সাব-লিজ বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তরের সুযোগ নেই। ফারুকের নামেই ইজারামূল্য পরিশোধ হচ্ছে। এ জন্য পার্ক তারাই চালাচ্ছেন ধরে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কেসিসির জমিতে তৈরি অবৈধ দোকান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

ইজারাদার ফারুকুল ইসলাম বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে পার্ক ছেড়ে দিয়েছি। বর্তমান অবস্থা এবং কীভাবে চালাচ্ছেন– সেটি তারাই বলবেন। বিনিয়োগের কিছু টাকা দেওয়ার কথা ছিল। ৯ মাসে এক টাকাও পাইনি।’

মাহাবুব হাসান পিয়ারু ও একরামুল হক হেলাল বলেন, পার্কে অনেকের বিনিয়োগ ছিল। শেখ সোহেলসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার কারণে তারা টাকা ফেরত পাননি। অভ্যুত্থানের পর ফারুক পার্ক চালাতে ব্যর্থ হন। তখন বিনিয়োগকারীরাই তাদের ডেকে পার্ক চালানোর অনুরোধ করেন। তারা পার্কটি পরিচালনা করছেন। বকেয়া ভাড়ার ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। পার্কের পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছেন। যেহেতু পার্ক সাব-লিজ দেওয়া যাবে না, এ জন্য লাইসেন্স এখনও ফারুকের নামেই রয়েছে।

তারা বলেন, কিছুদিন আগে সড়ক বিভাগ গল্লামারী বাজার উচ্ছেদ করে। অসহায় ব্যবসায়ীরাই কিছু দোকান নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সে জন্য অস্থায়ীভাবে পার্কের সীমানার ভেতরে কয়েকটি দোকান নির্মাণ করে নামমাত্র মূল্যে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পার্কে দর্শনার্থী কম, আয় হচ্ছে না। দোকান ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয় পার্ক ইজারামূল্য হিসেবে কেসিসিতেই জমা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৈয়েবুর রহমান বলেন, ‘পিয়ারু ও হেলাল আমার বন্ধু। আমি ওদের সঙ্গে নেই জানলে লোকজন ওদেরও থাকতে দেবে না। এ জন্য আমার কথা বলে। মূলত পার্ক ইজারা বা দোকান ভাড়ার সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই।
তথ‍্যসূত্রঃ সমকাল।

বিএনপি #দখল