রবিবার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির ঘোষণা দেবেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টার্মার আগামী রবিবার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেবেন বলে জানা গেছে।
এটি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্টার্মারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল সরকার ও কনজারভেটিভ নেতারা তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই পদক্ষেপ সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করার সামিল। তবে ব্রিটিশ সরকার মনে করছে, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আশা বাঁচিয়ে রাখতে তাদের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজার পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে অবনতি হয়েছে। জাতিসংঘের এক কমিশন সম্প্রতি গাজায় গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে, যা ইসরায়েল ‘বিকৃত ও মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ছাড়া পশ্চিম তীরে বেআইনি বসতি সম্প্রসারণকেও সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্যের এ প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক সতর্ক করে বলেছেন, জিম্মিদের মুক্তি ছাড়া এ ধরনের স্বীকৃতি সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করবে।
যুক্তরাজ্য ছাড়াও পর্তুগাল, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর আগে স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বর্তমানে জাতিসংঘের প্রায় ৭৫ শতাংশ সদস্য রাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান পুনরুজ্জীবিত করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি বড় হাতিয়ার হতে পারে।