পলাশবাড়ীতে হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ ও বিদেশি সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ হেফাজতের

রংপুরের পলাশবাড়ী এলাকায় বৃহৎ আকারের হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং এসব কর্মসূচিতে বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ধারাবাহিক অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির আমীর আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো জনমনে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র। দেশের প্রতিটি নাগরিক সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার অনুযায়ী নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন, যা জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা সকল ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের কথাও উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, পলাশবাড়ীর মতো ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বৃহৎ আকারের ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ, এসব প্রকল্পের অর্থায়নের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ঘনঘন সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জনমনে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য উত্তর নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়।
তারা আরও বলেন, কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা তার প্রতিনিধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড যদি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তার, সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্ট বা ভবিষ্যতে কোনো ধরনের কৌশলগত জটিলতার আশঙ্কা সৃষ্টি করে, তবে তা গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের উদাসীনতার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তারা।
হেফাজতের নেতারা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়গুলো নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে জনগণের উদ্বেগ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না, যাতে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় কিংবা কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অক্ষুণ্ন রেখে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং দেশের সার্বভৌম স্বার্থের প্রতি অটল অঙ্গীকারের মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা আরও সুসংহত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।