ময়মনসিংহে ইজিবাইক চালককে শিকলে বেঁধে রেখে মুক্তিপণ দাবি, অভিযুক্ত বাবা-ছেলে কারাগারে

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় এক ইজিবাইকচালককে তিন দিন শিকলে বেঁধে রেখে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে শিকলে বাঁধা অবস্থায় ওই ইজিবাইকচালককে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই রাতেই ভুক্তভোগীর স্ত্রী থানায় মামলা করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন ধোবাউড়া উপজেলার দর্শা হরচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সামছুল আলম (২৩) ও তার বাবা আজহারুল ইসলাম (৪৫)। সামছুল ঢাকায় ইজিবাইক চালাতেন। উদ্ধার হওয়া ইজিবাইকচালক মো. বাবুল মিয়া (৩০) ধোবাউড়া উপজেলার পূর্ব তারাইকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনিও ঢাকায় ইজিবাইক চালাতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাবুল মিয়াকে সম্প্রতি কুমিল্লা থেকে গাঁজার একটি চালান আনতে পাঠান সামছুল। বাবুলের দাবি, পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি ওই চালান জব্দ করে তাকে ছেড়ে দেয়। পরে তিনি বিষয়টি সামছুলকে জানালে তা বিশ্বাস না করায় দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ মে কৌশলে বাবুল মিয়াকে ধোবাউড়ার দর্শা হরচন্দ্রপুর গ্রামে সামছুলের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি ঘরে তার দুই পায়ে শিকল বেঁধে মারধর করা হয়। পরদিন থেকে বাবুলের পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামছুলের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় শিকলে বাঁধা অবস্থায় বাবুল মিয়াকে উদ্ধার করা হয় এবং সামছুল ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে বাবুলের স্ত্রী চম্পা আক্তার ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মাদকের টাকাপয়সা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ ছিল। তবে বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে আগে কোনো মাদকসংক্রান্ত তথ্য পুলিশের রেকর্ডে নেই। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।