মৌলভীবাজারে অটোরিকশা-প্রাইভেট কারের ‘ঘষা লাগাকে’ কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ছয় সাংবাদিকসহ আহত ১৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রাইভেট কার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছয় সাংবাদিকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা একটা থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারের মধ্যে সামান্য সংঘর্ষের পর প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। পরে তা হাতাহাতি এবং একপর্যায়ে ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এক পক্ষে ছিলেন অটোরিকশার চালক ও শ্রমিকেরা, অন্য পক্ষে ছিলেন প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের চালক–শ্রমিকেরা।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন আমজাদ হোসেন বাচ্চু, ইসমাইল মাহমুদ, এহসানুল হক, উজ্জ্বল কুমার দাশ, নূর মোহাম্মদ সাগর, মো. আলামিন, রাব্বি, আইয়ুব আলী, বিশাল, শওকত, রাকিব, বিল্লাল মিয়া, চয়ন মিয়া ও আমির মিয়া। আরও দুজনের নাম জানা যায়নি। গুরুতর আহত আমজাদ হোসেন বাচ্চু, বিশাল, আইয়ুব আলী, রাব্বি ও শওকতকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মকর্তা জানান, আহত ১৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশের মাথা ও শরীরে আঘাত ছিল।
আহত সাংবাদিকেরা হলেন আমজাদ হোসেন (বাচ্চু), ইসমাইল মাহমুদ, এহসান বিন মুজাহিদ, এস কে দাশ সুমন, নূর মোহাম্মদ সাগর ও মো. আলামিন। তাঁরা ঢাকাভিত্তিক বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি। সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁরা হামলার শিকার হন।
আহত সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ বলেন, “সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে পরিবহন শ্রমিকেরা আমাদের দিকে তেড়ে আসেন। সহকর্মী আমজাদ হোসেন বাচ্চুকে পাইপ ও কাঠের টুকরা দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে অন্যরা এগিয়ে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়।”
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকের পর উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, আহতদের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি পরিবহনশ্রমিকদের দুই পক্ষ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।