ওরে মা… মা গো… আর মারিস না ভাই… হৃদয় ভাইয়া, ছেড়ে দে… আমি আর করব না

রাজশাহী মহানগরীর কাজলা এলাকায় এক যুবককে গাছে বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার যুবকের নাম তুষার (৩৫)। তিনি রাজশাহীর মতিহার থানার কাজলা এলাকার নাজিরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি বাসার জানালার থাইগ্লাস চুরির সন্দেহে তুষারকে আটক করা হয়। পরে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর শুরু করে।
রোববার (১০ মে) ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় তুষারের ওপর একের পর এক আঘাত করা হচ্ছে। কখনো বাঁশ, কখনো মোটা লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একটি বাঁশ ভেঙে গেলে আরেকটি এনে আবারও মারধর চালানো হয়।
ভিডিওতে তুষারকে যন্ত্রণায় চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “ওরে মা… মা গো… আর মারিস না ভাই… হৃদয় ভাইয়া, ছেড়ে দে… আমি আর করব না…”। তবে তার আহাজারির পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘হৃদয়’ নামের এক যুবক পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তুষার বারবার তার কাছেই করুণা চাইছিলেন। কিন্তু উপস্থিত কেউ নির্যাতন ঠেকাতে এগিয়ে আসেননি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে নির্যাতন করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি দণ্ডনীয় অপরাধ।
সিটিএসবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের নাম আশিক, মাহিন ও মানিক। ভিডিও ধারণকারী যুবকের নাম হৃদয়। এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম কবির বলেন, “অপরাধকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে সমাজে অপরাধ বাড়তেই থাকবে। এ ঘটনায় অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলেও জানান তিনি।