
অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে— তা প্রকাশ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে দেওয়া এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সোমবার (১১ মে) প্রকাশ করা হয়েছে।
২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এ বিষয়ে একটি রিট আবেদন করেন। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।
পরে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হক-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইন দিয়ে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। ভবিষ্যতে নির্দেশনার বাস্তবায়ন তদারকির সুযোগ রাখতে এ নির্দেশনাকে ‘continuous mandamus’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি।
আদালত বলেন, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।
পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা অনুপস্থিত ছিল। শুধু গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এ অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।
রায়ে নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-কে ছয় মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে আদালত উল্লেখ করেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।