
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের জুগিগজ গ্রামে চার দশকের বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে আলোচিত শালবাহান তেলকূপ। ১৯৮০-এর দশকে এখানে তেলের সন্ধান পাওয়ার দাবি দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হলেও, পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে কূপটিকে ‘শুষ্ক’ ঘোষণা করে স্থায়ীভাবে সিল করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহের জন্ম নেয়—আসলেই কি সেখানে তেল ছিল, নাকি অন্য কোনো কারণে প্রকল্পটি বন্ধ করা হয়েছিল?
জানা যায়, ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেলের অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভারতের সীমান্তঘেঁষা শালবাহান এলাকায় ভূতাত্ত্বিক জরিপ চালানো হয়। অনুসন্ধানে প্রায় ৯০০ মিটার গভীরে তেলের অস্তিত্বের সম্ভাবনা শনাক্ত হয়। সে সময় বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও শালবাহানে উত্তোলনযোগ্য তেল থাকার বিষয়ে ইতিবাচক মত দেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সম্ভাবনা নিশ্চিত হওয়ার পর তৎকালীন সরকার প্রায় ৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে এসে তেলকূপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করেন। পরীক্ষামূলকভাবে কিছু তেল উত্তোলনের পর হঠাৎ করেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, সেখানে পর্যাপ্ত তেল মজুত নেই। ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হয় সব যন্ত্রপাতি এবং কূপটি সিল করে দেওয়া হয়।
তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশ শেল অয়েল কোম্পানি দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় শালবাহানেও একটি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়। যদিও পরবর্তীতে সেটিকে শুষ্ক কূপ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তবে বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর ও কোরিয়ার যৌথ জরিপে ওই এলাকায় হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এতে নতুন করে আলোচনায় আসে শালবাহান তেলকূপ।
স্থানীয়দের দাবি, এখানে এখনো বিপুল পরিমাণ ডিজেল বা কেরোসিনজাতীয় জ্বালানি মজুত থাকতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আন্তর্জাতিক চাপ কিংবা রাজনৈতিক সমঝোতার কারণেই তেলকূপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
পঞ্চগড়ের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করে “আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কারণেই শালবাহান তেলকূপ বন্ধ করা হয়েছে। পুনরায় খননের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবে তারা।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরু একটি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, নতুন করে তেলের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য সরকার ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।