ডাকসুর চাপে শিক্ষার্থীদের জন্য শনিবার বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের জন্য শনিবার বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিন্ডিকেট সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার বাস সার্ভিস চালুর দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) পরিবহন খাতে বরাদ্দ দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম বাস সার্ভিস চালু আটকে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিন্ডিকেট সভা চলাকালে বিক্ষোভ শুরু করেন ডাকসু নেতারা। এর আগে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ ও সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পৃথক পোস্টে একই অভিযোগ তোলেন।
আসিফ আব্দুল্লাহ তার পোস্টে লেখেন, “শনিবারের বাসের ট্রিপ আটকে দেয়ার সুপারিশ করলেন ঢাবি ট্রেজারার জাহাঙ্গীর; অথচ ডাকসুর আপ্রাণ চেষ্টায় ইউজিসি থেকে পরিবহন খাতেই সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছিলাম।”
একই ধরনের অভিযোগ তুলে মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ লেখেন, “ডাকসু ভিপি ও পরিবহন সম্পাদকের আপ্রাণ চেষ্টায় ইউজিসি থেকে পরিবহন খাতে সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ আনা হলেও শনিবারের বাস সার্ভিস আটকে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।”
এর আগে বুধবার ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমাও ফেসবুকে কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, শনিবারের বাস সার্ভিস চালুর ফাইল দীর্ঘদিন ধরে কোষাধ্যক্ষের দপ্তরে আটকে ছিল এবং তার স্বাক্ষর না পাওয়ায় তা উপাচার্যের কার্যালয়ে পাঠানো যাচ্ছিল না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সার্ভিস চালু বা বন্ধ করার ক্ষমতা ট্রেজারারের নেই। সব সিদ্ধান্ত উপাচার্যের হাতে। আমি শুধু আর্থিক বিষয়ে মতামত দিই, সেটাও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ বিবেচনায়।”
তিনি আরও বলেন, “কারও চেহারা দেখে বা কোনো দলের দিকে তাকিয়ে আমি মতামত দিই না। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে মতামত দিই। ডাকসু নেতারা না বুঝে বাড়াবাড়ি করে কথা বলছে।”