
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অনেক আগে থেকেই দুটি পদ্মা সেতুর কথা বলেছিলেন। তবে যে স্থানে সেতু নির্মাণের জন্য আন্দোলন ছিল, সেখানে তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের সময়েই দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের দাবি জানান।
রোববার (৩ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব-এ ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া-কাজীরহাট’ রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর দাবিতে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ৩০ থেকে ৪০ বছর আগে ছাত্ররাজনীতির সময় থেকেই এই রুটে সেতু নির্মাণের দাবি ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ ভারতের সময় পদ্মার ওপারের মানুষ শিক্ষা ও ব্যবসায় এগিয়ে ছিলেন, কারণ তখন রাজধানী ছিল কলকাতা এবং ওই অঞ্চলের মানুষ সরাসরি সেখানে যাতায়াত করতে পারতেন।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা ভোগান্তি সহ্য করেছে। এখন ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া’ নৌ-রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণই তাদের প্রধান দাবি।
গোলটেবিল আলোচনায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি ডা. আবু তোহা বলেন, এই রুটে সেতু নির্মাণ সময়ের দাবি। এটি বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ফেরিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা অনির্ভরশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা এবং দুর্ঘটনার কারণে ভোগান্তি বেড়ে যায়। সেতু নির্মাণ হলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর হবে।
আলোচনায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, মানিকগঞ্জের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ জোরদারে ‘পাটুরিয়া-কাজীরহাট’ রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাস্তবায়িত হলে রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলার মানুষ উপকৃত হবে এবং সাভার শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
বক্তারা আরও বলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে ফেরি দুর্ঘটনা কমবে এবং কুয়াশাজনিত বিঘ্ন দূর হয়ে এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন হবে।