বিএনপির ভন্ডামি প্রকাশ পেয়েছে সংসদে মন্ত্রীর বক্তব্যে: হাসনাত এমপি।

রবিবার (৩ মে) ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কনভেনশনে তিনি বলেন, সংসদে এক মন্ত্রীর বক্তব্য থেকেই সরকারের ‘দ্বিমুখী অবস্থান’ প্রকাশ পেয়েছে। তার ভাষায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার বিভিন্ন দাবি মেনে নিলেও তা ছিল কেবল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল, যা তিনি ‘ভণ্ডামি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর সরকারের মনোভাব এমন হয়েছে যে জনগণের মতামত শোনার প্রয়োজনীয়তা তারা আর অনুভব করছে না। এই দৃষ্টিভঙ্গি দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকরা নিজেদের প্রতারিত ও বঞ্চিত মনে করছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও আস্থা কমে যাচ্ছে।
পুলিশ সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্কারের উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নে এখনো রাজনৈতিক প্রভাব রয়ে গেছে। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনেও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, সংসদে দেওয়া কিছু বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং অনেক বিষয় আড়াল করা হয়েছে। তার দাবি, কাগজে-কলমে ক্ষমতা সীমিত হলেও বাস্তবে মন্ত্রীর প্রভাবেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তিনি আরও বলেন, এখনো এমন কোনো কাঠামো গড়ে ওঠেনি যেখানে বিচারকরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিচার কার্য পরিচালনা করতে পারেন। প্রশাসনিক কাঠামোতেও মৌলিক সংস্কারের অভাব রয়েছে, ফলে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যেই রয়ে গেছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহর মতে, এই পরিস্থিতিতে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থকরাও হতাশ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে সংস্কারের প্রত্যাশা করা ভোটারদের মধ্যেও হতাশা বাড়ছে।
রাষ্ট্র সংস্কারে ব্যর্থতার কারণে নাগরিকদের মধ্যে ‘প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি’ তৈরি হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, সংস্কার কেবল সংসদের ভেতরে সীমাবদ্ধ না রেখে বাইরে থেকেও সমানভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এককেন্দ্রিক ক্ষমতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।