ট্রাম্পের ‘কিসি মাই অ্যাস’ মন্তব্যের পর গাল্ফ নেতাদের সন্তানদের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠানোর আহ্বান জানালেন স্টিভ ব্যানন।

ওয়াশিংটন — মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক হোয়াইট হাউস স্ট্র্যাটেজিস্ স্টিভ ব্যানন বলেছেন, গাল্ফের নেতারা যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সত্যিকারের অংশগ্রহণ করতে চান, তাহলে তাদের নিজেদের সন্তানদের সামনের সারিতে পাঠাতে হবে।
শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) তাঁর “War Room” পডকাস্টে ব্যানন বলেন, “হয়তো আমরা দু-তিনজন রাজপুত্রকে ইউনিফর্ম পরিয়ে সামনে পাঠাতে পারি। তাদের কারও সন্তান স্পেশাল ফোর্সে আছে? রয়্যাল ফ্যামিলিগুলোকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেখি তারা আসলে কত বড় কথা বলছে।”
তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েলিরা আমাদের সঙ্গে খেলছে, আরবরা খেলছে, ইউরোপীয়রা খেলছে। আর আমরা কী করছি? সেখানে সেনা পাঠাচ্ছি।” ব্যানন এই যুদ্ধকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখিয়ে বলেন, “আমরা আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের ২,৩০০ বছর আগের অভিযান আবার করতে যাচ্ছি। যদি তাই হয়, তাহলে আমি চাই আরবরা সামনের সারিতে থাকবে।
সারখার্গ দ্বীপে প্রথম তরঙ্গে UAE-কে পাঠানোর প্রস্তাব
ব্যানন স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে আক্রমণের “প্রথম তরঙ্গে” সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (UAE) পাঠানো উচিত। তিনি UAE প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ (MBZ)-কে “ওই অঞ্চলের সবচেয়ে ভালো মিত্র” বলে অভিহিত করেন এবং দুবাইয়ে ইরানি অর্থ পাচারের “পাইরেট কোভ” বন্ধ করার দাবি জানান।
ট্রাম্পের MBS-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য
ব্যাননের এই বক্তব্য আসে একদিন পরেই, যখন ট্রাম্প ফ্লোরিডায় সৌদি-সমর্থিত এক বিনিয়োগ সম্মেলনে সৌদি ক্রাউন প্রিমোহাম্মদ বিন সালমান (MBS)-কে নিয়ে মজা করেন। ট্রাম্প বলেন, “এক বছর আগে তোমরা মৃত দেশ ছিলে। এখন তোমরা বিশ্বের সবচেয়ে হট দেশ। তিনি (MBS) ভাবেননি যে এটা ঘটবে… তিনি ভেবেছিলেন আমি আরেকজন লুজার আমেরিকান প্রেসিডেন্ট… কিন্তু এখন তাঁকে আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হচ্ছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে। পাকিস্তান “অর্থপূর্ণ” আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের কর্মকর্তারা ইসলামাবাদে বৈঠক করে যুদ্ধের অবসান এবং সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পথ খুঁজছে।
সূত্র: Middle East Eye (প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬)
লেখক: Elis Gjevori
এই বক্তব্যগুলো ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের মধ্যে গাল্ফ দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ব্যাননের কথায় স্পষ্ট যে, তিনি চান মিত্র দেশগুলো শুধু কথায় নয়, বাস্তবে যুদ্ধের খরচ ও ঝুঁকি ভাগ করে নিক।