ঈদযাত্রা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বস্তিদায়ক হয়েছে: সড়ক মন্ত্রী রবিউল।

সাম্প্রতিক ঈদযাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি স্বস্তিদায়ক ও নিয়ন্ত্রিত ছিল বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনতে বাসে জিপিএস ট্র্যাকিং চালুর সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৯ মার্চ) ঈদ-পরবর্তী মূল্যায়ন সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ছেড়ে গেলেও কোথাও বড় ধরনের যানজট বা স্থবিরতা সৃষ্টি হয়নি। কিছু এলাকায় চাপ থাকলেও অধিকাংশ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় ঈদযাত্রার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মহাসড়কে অস্থায়ী বাজার বসানো বন্ধ, ট্রাক ও পণ্যবাহী যান চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়তি নজরদারি জোরদার করার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে গাজীপুর-চন্দ্রা ও সফিপুর এলাকায় যানজট নিরসনে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে মহাসড়কের পাশে যত্রতত্র টিকিট কাউন্টার বসানো যাবে না। নির্ধারিত বাস টার্মিনাল থেকেই টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফেরি পারাপারের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা আসছে বলে জানান তিনি। যাত্রী নামানোর পরই কেবল যানবাহন ওঠানো বাধ্যতামূলক করা হবে এবং এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে পর্যায়ক্রমে সব গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং চালুর কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এর মাধ্যমে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত রুট ভঙ্গ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং ফিটনেসবিহীন যান চলাচল সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। ওভারস্পিড বা রুট ভঙ্গ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এই ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে সিসিটিভি ও স্পিড ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালু রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, সার্বিক ব্যবস্থাপনা, মাঠপর্যায়ের তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে সফল হয়েছে। তবে আগামীতে আরও উন্নত ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে এই মূল্যায়ন সভার আয়োজন করা হয়। এতে সড়ক পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ, বিআরটিএ, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সামনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রা আরও নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করতে বিভিন্ন সুপারিশও গৃহীত হয়েছে।