মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানিক্ষেত্রে হামলা: বাংলাদেশ সহ বিশ্ব বাজারে সংকট?

এদিকে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের ‘সৌদি আরামকো’র সামরেফ তেল শোধনাগারে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।
অন্যদিকে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।হামলায় সেখানে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। দৈনিক ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই স্থাপনাটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগারটি।কুয়েত নিউজ এজেন্সি (কেএনএ) কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে। মাত্র ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দুই দফা হামলায় উপসাগরীয় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এসব দেশে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর এলএনজি আমদানির বড় একটি অংশ কাতার থেকে আসে। দেশটির অধিকাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস রাস লাফান শিল্প নগরীতেই প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং সেখান থেকেই রপ্তানি করা হয়। ফলে এই স্থাপনায় হামলার প্রভাব সরাসরি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর পড়তে পারে।
জ্বালানি খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ প্রায় ৭০ শতাংশ কাতার থেকে সংগ্রহ করে। অন্যদিকে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য বলছে, ভারতের এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি আসে কাতার থেকে।
রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি চলতি মাসের শুরুতেই রাস লাফান স্থাপনায় এলএনজি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। তবে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে প্রতিষ্ঠানটির আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাস লাফান শিল্প নগরী শুধু এলএনজি উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, এটি কাতারের অন্যতম বৃহৎ শিল্প কমপ্লেক্স। এখানে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সার উৎপাদিত হয়, যা বৈশ্বিক কৃষি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সালফার ও হিলিয়ামও উৎপাদিত হয়। মাইক্রোচিপ তৈরিতে ব্যবহৃত হিলিয়াম গ্যাসের বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই কেন্দ্র থেকেই আসে বলে জানিয়েছে কাতার এনার্জি।
নি।