গাঁজা সেবনের সময় ঢাবি ছাত্রদলের ৪ সদস্য গ্রেফতার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহিদ ওসমান হাদী হল (সাবেক শেখ মুজিবুর রহমান হলে ) গাঁজা সেবনের প্রস্তুতিকালে ছাত্রদল কর্মীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ২টার দিকে হলের পুরাতন ভবনের ছাদে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃতদের মধ্যে দুজন ঢাবির বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী এবং অপর দুজন বহিরাগত।
আটক শিক্ষার্থীরা হলেন— সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩–২৪ সেশনের শিক্ষার্থী তানবীন আহমেদ (আহমেদ আনিম)। তানবীন ছাত্রদল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। তিনি বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আল হাদী মায়েদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বহিরাগত দুইজনের নাম সামিউল ও রাকিব।
জানা যায়, হল সংসদের ভিপি মুসলিমুর রহমান এবং এজিএস মুশফিক তাজওয়ার মাহি হলের ছাদে মাদক সেবনের তথ্য পেয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেখানে যান। এ সময় চারজনকে গাঁজা সেবন করতে দেখে তাদের পরিচয় জানতে চান এবং বিষয়টি প্রক্টরিয়াল টিমকে অবহিত করেন। ঘটনাস্থল থেকে তামাক পাতা, গাঁজা ও কল্কি উদ্ধার করা হয়।
আটক বহিরাগত সামিউল বলেন, তিনি ও রাকিব ডেমরা এলাকায় থাকেন। ধানমন্ডিতে একটি কাজে এসে রাত হয়ে যাওয়ায় পরিচিতদের সঙ্গে হলে আসেন। অন্য হলের ছাদে অবস্থানের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ছাদে উঠেছিলেন।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী তানবীন আহমেদ বলেন, তারা একটি কাজে ওই হলে এসেছিলেন এবং পরে অসুস্থ বোধ করায় ছাদে যান। প্রথমে মাদক সরঞ্জাম থাকার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন যে সেগুলো তাদের সঙ্গেই ছিল।
প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য রিপন বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। বহিরাগতদের সাধারণত থানায় সোপর্দ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চূড়ান্ত নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হল সংসদের এজিএস মুশফিক তাজওয়ার মাহি জানান, গভীর রাতে ছাদে লোকজন দেখতে পেয়ে তিনি সেখানে যান। পুরাতন ভবনে লোকজন কম থাকায় আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের সময় মাদকের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা ছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, গাঁজা সেবনের খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম পাঠানো হয়েছে। আটককৃতরা যেহেতু হলের শিক্ষার্থী, তাই হল প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। সে অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।