সর্বশেষ
ইসরায়েলের পুলিশ সদর দপ্তরে হামলামার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে সৌদি ত্যাগের নির্দেশইরান যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প: মার্কিন সিনেটরদুবাইয়ে ইরান যুদ্ধের ছবি ভিডিও প্রকাশ করায় ১ বাংলাদেশি সহ ১০ জন গ্রেপ্তারবান্দরবানের পাহড়ে ২৫০০ একর জায়গায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে ঘিরে প্রশ্নইরানের হামলায় আহত ইসরায়েলির সংখ্যা ২,৫৫৭ ও ১২ জন নিহত।দাজ্জালকে ফেরাতেই ইরানে আক্রমণ; নেতানিয়াহুর মন্তব্যে তোলপাড়প্রথম দিনেই সংসদে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন হবে অন্তর্বর্তী সরকারের ৩৯ অধ্যাদেশইসরায়েলের পুলিশ সদর দপ্তরে হামলামার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে সৌদি ত্যাগের নির্দেশইরান যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প: মার্কিন সিনেটরদুবাইয়ে ইরান যুদ্ধের ছবি ভিডিও প্রকাশ করায় ১ বাংলাদেশি সহ ১০ জন গ্রেপ্তারবান্দরবানের পাহড়ে ২৫০০ একর জায়গায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে ঘিরে প্রশ্নইরানের হামলায় আহত ইসরায়েলির সংখ্যা ২,৫৫৭ ও ১২ জন নিহত।দাজ্জালকে ফেরাতেই ইরানে আক্রমণ; নেতানিয়াহুর মন্তব্যে তোলপাড়প্রথম দিনেই সংসদে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন হবে অন্তর্বর্তী সরকারের ৩৯ অধ্যাদেশ
Live Bangla Logo

সংখ্যালঘুদের ঘরে আগুন দিয়ে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র করতো আওয়ামী লীগঃ আসামীদের স্বীকারোক্তি॥

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
সংখ্যালঘুদের ঘরে আগুন দিয়ে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র করতো আওয়ামী লীগঃ আসামীদের স্বীকারোক্তি॥

চট্টগ্রাম: জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার আসামিদের স্বীকারোক্তিতে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট অংশ এই নাশকতার পেছনে জড়িত ছিল। উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে ভারতসহ আন্তর্জাতিক পরিসরে অস্থিরতা ও চাপ সৃষ্টি করা।

গত সোমবার চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হারুনের আদালতে গ্রেপ্তার আসামি মনির হোসেনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দিতে তিনি জানান, মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে প্রথমে তিনি স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার কাছে যান। ওই নেতা তাকে আশ্বাস দেন, বিচার হবে—তবে তার জন্য শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। পরে তাকে রাঙামাটির এক আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত কয়েকজন পেশাদার অপরাধীর সঙ্গেও তার যোগাযোগ করানো হয়।

মনিরের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অংশ হিসেবেই হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বসতঘরে আগুন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিনিময়ে তাকে এক লাখ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি রাঙামাটি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, রাউজানে প্রথম অগ্নিকাণ্ডের কয়েক দিন আগে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও পাহাড়ি সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে পাঁচটি বাড়ির মালিকপক্ষের কয়েকজনও উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনাকারীদের লক্ষ্য ছিল, এসব ঘটনার মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা, যাতে এর প্রতিবাদ ভারতসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়ে এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে চাপ তৈরি হয়।

অগ্নিসংযোগের কৌশল সম্পর্কে মনির বলেন, আগুন দেওয়ার আগে বাড়ির লোকজনকে সতর্ক করা হতো, যাতে কেউ হতাহত না হয় এবং পোষা প্রাণী সরিয়ে নেওয়া যায়। বাড়ির বাইরে পুরনো কাপড় ও লুঙ্গি রেখে আগুন লাগানো হতো। ক্ষতিপূরণ হিসেবে আগেই রাঙামাটির এক আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলরের মাধ্যমে মোট ১৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ডিসেম্বর রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় মোট পাঁচটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ১৮ ডিসেম্বর রাউজানের কেউটিয়া বড়ুয়াপাড়া গ্রামে সাধন বড়ুয়ার বসতঘর ও গোয়ালঘরে আগুন দেওয়া হয়। পরদিন ঢেউয়াপাড়া গ্রামে দুটি হিন্দু বসতঘরে এবং ২৩ ডিসেম্বর পশ্চিম সুলতানপুর গ্রামে সুখ শীল ও অনিলের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসব ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও কয়েকটি ঘর আংশিক ও কয়েকটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে উসকানিমূলক বক্তব্যসংবলিত ব্যানার উদ্ধার করা হয়, যেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে উসকানিমূলক বক্তব্য, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম এবং অর্ধশতাধিক মোবাইল নম্বর লেখা ছিল। প্রতিটি ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করেন।

এ ঘটনায় রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। তবে ঢেউয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিমল তালুকদার টাকার বিনিময়ে নিজের বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, গভীর রাতে আগুন লাগার পর বেড়া কেটে পরিবার নিয়ে বের হতে হয় এবং কেন আগুন দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না। মনিরের স্বীকারোক্তি নিয়েও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আহসান হাবিব পলাশ বলেন, রাতের আঁধারে সংঘটিত এসব অগ্নিসংযোগ ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক। এর মাধ্যমে দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ২ জানুয়ারি রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কলেজগেট এলাকা থেকে মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন ওমর ফারুক, কবির হোসেন, কার্তিক দে, বিপ্লব বড়ুয়া, মোহাম্মদ লোকমান ও মো. পারভেজ। তাদের কাছ থেকে চারটি উসকানিমূলক ব্যানার, দুটি কেরোসিন তেলের কনটেইনার, একটি কেরোসিন তেলের বোতল, কেরোসিন তেলমাখা একটি লুঙ্গি ও একটি পুরনো কালো শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যানারে উল্লেখিত মোবাইল নম্বর সংরক্ষিত একটি মোবাইল ফোন, একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে, যা অগ্নিসংযোগের কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল।

পুলিশ কর্মকর্তা আহসান হাবিব পলাশ জানান, ১৫–১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত ছিল। জনমনে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ছড়াতে ষড়যন্ত্রমূলক ব্যানার টানানো হয়। ব্যক্তিগত পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিশোধের কারণে ব্যানারে কিছু ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বর যুক্ত করা হয়েছিল।