
সিলেট টাইটানসের হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চের চূড়ান্ত রূপ দেখা গেল। বিপিএলের এক নাটকীয় লড়াইয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে এক উইকেটে হারিয়ে প্রথম জয় তুলে নেয় সিলেট। তবে এই জয়ের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় নোয়াখালীর বাঁহাতি পেসার মেহেদী হাসান রানার ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক।
ইনিংসের ১৮তম ওভারে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচে নতুন মোড় আনেন রানা। ১৮ বলে ২৪ রানের সমীকরণে বল হাতে নিয়ে সিলেটকে বড় চাপে ফেলে দেন তিনি। কিন্তু শেষ ওভারের নাটকীয়তায় তার অসাধারণ পারফরম্যান্স শেষ পর্যন্ত ফল এনে দিতে পারেনি নোয়াখালীর জন্য।
শেষ ওভারে ১৩ রান প্রয়োজন ছিল সিলেটের। সাব্বির হোসেন প্রথম দুই বলে রান না দিলেও তৃতীয় বৈধ বলে হাই ফুলটসে নো বল করেন। ফ্রি হিটে ইথান ব্রুকস ছক্কা হাঁকান, পরের বলে আসে চার। এরপর ব্রুকসকে রান আউট করে ম্যাচ জমিয়ে দেন উইকেটরক্ষক জাকের আলী অনিক। কিন্তু শেষ বলে ২ রানের সমীকরণে ওয়াইড দিয়ে বসেন সাব্বির। ফলে ম্যাচ টাই হয়ে যায়। ফিরতি বলে সালমান এরশাদের পায়ে লাগা বল থেকে বাই রান নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন ননস্ট্রাইক প্রান্তে থাকা মোহাম্মদ আমির। নোয়াখালীর রিভিউ ব্যর্থ হলে এক উইকেটের জয় পায় সিলেট।
১৪৪ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে সিলেট। ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে ৮৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন পারভেজ হোসেন ইমন ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৬০ রানের ইনিংস খেলে জয়ের ভিত গড়ে দেন ইমন। মিরাজ করেন ৩৩ রান।
এর আগে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের অপরাজিত ৬১ রানে ভর করে ৭ উইকেটে ১৪৩ রান তোলে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। সিলেটের হয়ে ম্যাচসেরা খালেদ আহমেদ এক ওভার মেডেনসহ ২৩ রানে নেন ৪ উইকেট। নোয়াখালীর পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন হ্যাটট্রিকম্যান মেহেদী হাসান রানা।
সব মিলিয়ে শেষ বল পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ভরা ম্যাচে হাসি ফোটে সিলেট টাইটানসের মুখে, আর ইতিহাস গড়েও আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রানাকে।