বাংলাদেশে আমদানি বন্ধঃ ভারতে পচছে পেঁয়াজ, কেজি মাত্র ২ রুপি

বাংলাদেশে আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা। দিল্লির গাজিপুর পাইকারি বাজারে বস্তা বস্তা পেঁয়াজ অবিক্রীত পড়ে আছে—অনেকটাই পচে যাচ্ছে। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইটিভি জানায়, শীত মৌসুমে অতিরিক্ত সরবরাহ ও রপ্তানিনিষেধে পাইকারি দাম রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। কোথাও কোথাও প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ রুপিতে, সর্বোচ্চ ১৩ রুপিতে।
অতিরিক্ত ফলন, রপ্তানি নেই—ক্ষতির মুখে কৃষক
গাজিপুর বাজারের পাইকার পারমানন্দ সাইনি জানান, নাসিক, আলওয়ার, মধ্যপ্রদেশ, বেঙ্গালুরু—সব জায়গা থেকে প্রচুর পেঁয়াজ এসেছে। ফলন ভালো হলেও রপ্তানি বন্ধ থাকায় দাম ভেঙে পড়েছে।
৫০ কেজির একটি বস্তা ছোট পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ রুপিতে, অথচ অতিরিক্ত খরচই ১২০ রুপি। ফলে কৃষকের ন্যূনতম উৎপাদন খরচও উঠছে না।
আরেক ব্যবসায়ী সচ্ছা সিংয়ের অভিযোগ, ঠিক এমন সময়ে সরকারি সংস্থাগুলো আগের মজুত করা পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ছে, যখন সরবরাহ সবচেয়ে বেশি। তাঁর দাবি, “বাংলাদেশ সীমান্ত এক বছর ধরে বন্ধ। পণ্য জমছে, কৃষক–ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত।”
রপ্তানির বহুমুখীকরণের পরামর্শ
পণ্য রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ লোকেশ গুপ্ত বলেন, বেসরকারি ও সরকারি উভয় সংস্থার জন্য মজুতসীমা নির্ধারণ করা জরুরি। অযথা মজুতদারি বন্ধ না হলে বাজারে ধস চলবেই।
তিনি পরামর্শ দেন—ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানির বাজার বহুমুখী করতে হবে। বাংলাদেশ ছাড়া উপসাগরীয় দেশ, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কাতেও চাহিদা রয়েছে। কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থা এনএএফইডি–এর বিদেশি শাখা চালুর সুপারিশও করেন তিনি।
কেন ভারত বাজার হারাচ্ছে?
লোকেশ গুপ্তর মতে—
- আগে ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশ কিনত বাংলাদেশ।
- বর্তমানে কৃষকদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ আমদানি বন্ধ রেখেছে।
- সৌদি আরব এখন প্রতিযোগিতামূলক দামে ইয়েমেন ও ইরান থেকে পেঁয়াজ নিচ্ছে।
- ভারত বারবার রপ্তানিনিষেধ, শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় ঐতিহ্যবাহী ক্রেতারা বিকল্প উৎস খুঁজে নিয়েছে।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ভারত বিভিন্ন সময়ে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করেছে। এর আগে ২০১৯–২০ সালেও ছয় মাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞায় কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজার হারাচ্ছে ভারত। অবৈধভাবে পেঁয়াজবীজ রপ্তানির ফলে কিছু দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠছে। কৃষকদের আশঙ্কা—দাম না বাড়লে আগামী মৌসুমে তাঁরা পেঁয়াজ চাষ কমিয়ে দেবেন।
ভারতীয় বাজারে বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে সবচেয়ে বড় প্রভাব—বাংলাদেশের বাজার হারানোই উঠে এসেছে।