আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ ব্যাটিং বাংলাদেশ দলের, জয়ের সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় দিন শেষে ৫২ রানে লিড

প্রথম দিন শেষে লক্ষ্য ছিল আয়ারল্যান্ডকে যত দ্রুত সম্ভব অলআউট করা— সেই পরিকল্পনাতেই দ্বিতীয় দিনের শুরুতে মাত্র ১৪ বলেই আইরিশদের অলআউট করে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। লাক্কাতুরার রানপ্রবণ উইকেটে ব্যাট হাতে ঝড় তোলে টাইগাররা। বিশেষ করে মাহমুদুল হাসান জয়, যিনি ওপেনিংয়ে নেমে দিনের শেষ বল পর্যন্ত অপরাজিত থেকে খেলেছেন ২৮৩ বলে ১৬৯ রানের অনবদ্য ইনিংস।
দিন শেষে ৮৫ ওভারে ১ উইকেটে ৩৩৮ রান তুলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ৫২ রানে।
অফফর্মের কারণে আগের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া জয় এনামুল হক বিজয়ের পরিবর্তে সুযোগ পান এই টেস্টে, আর সেই সুযোগটাকেই তিনি সোনায় পরিণত করেছেন। প্রায় ৩ বছর ৭ মাস ১২ দিন পর সেঞ্চুরি পাওয়া জয় নিজের আগের সর্বোচ্চ ১৩৭ রানের রেকর্ড ভেঙে নতুন ব্যক্তিগত সেরা গড়েছেন।
তার ইনিংসে ছিল ১৪ চার ও ৪ ছক্কা। হাফসেঞ্চুরির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে খেলেন জয়, সেঞ্চুরির পর তার ব্যাট থেকে আসে টানা তিনটি ছক্কা।
অন্যদিকে ইনিংসের সূচনা করেছিলেন দুর্দান্ত সাদমান ইসলাম, যিনি শুরু থেকেই ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিং করে ৪৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকা সাদমান বিরতির পরও ভালো খেলতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৮০ রানে আউট হন। তার ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ১ ছক্কা। জয়ের সঙ্গে তার ১৬৮ রানের জুটি বাংলাদেশের হয়ে ওপেনিংয়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের জুটি।
সাদমানের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন মুমিনুল হক, যিনি ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে ১২৪ বলে ৮০ রান করে অপরাজিত আছেন। তিনি আগামীকাল নামবেন নিজের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরির লক্ষ্য নিয়ে।
এই তিন ব্যাটারের দারুণ ইনিংসেই বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড আজ উজ্জ্বল। মাত্র ৫৫.৪ ওভারের মাথায় লিড পাওয়া বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন পরিষ্কার— তৃতীয় দিনে যতটা সম্ভব লিড বাড়িয়ে নেওয়া।
আগামীকাল মাঠে নামবেন জয় তার ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্ন নিয়ে, সঙ্গে থাকবে বাংলাদেশের ইনিংস বড় করার মিশন।