বাংলাদেশ সীমান্তের মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে আসামের ধুবড়িতে নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করছে ভারত

বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলায় নতুন একটি সেনাঘাঁটি নির্মাণ শুরু করেছে ভারত সরকার।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ করিডরের কাছেই ঘাঁটিটি স্থাপন করা হচ্ছে, যা ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
ভারতের সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর. সি. তিওয়ারি গত বৃহস্পতিবার নতুন ঘাঁটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এই ঘাঁটির নাম রাখা হয়েছে ‘লাচিত বোরফুকান মিলিটারি স্টেশন’, ১৭ শতকের কিংবদন্তি আহোম সেনানায়ক লাচিত বোরফুকানের নামানুসারে, যিনি মোগল বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
ভারতের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘাঁটি তেজপুরভিত্তিক চতুর্থ কোরের অধীনে থাকবে এবং সর্বোত্তম মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ে কার্যকর করা হবে।
স্থানীয় বিধানসভা সদস্য হামিদুল রহমানও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
🔹 কৌশলগত অবস্থান ও গুরুত্ব
‘লাচিত বোরফুকান মিলিটারি স্টেশন’ নির্মাণ করা হচ্ছে বনুমনি পার্ট-১ ও বনুমনি পার্ট-২ গ্রামের সরকারি জমিতে, প্রায় ১৯৬ বিঘা এলাকায়।
এটি ধুবড়ি জেলার সপ্তগ্রাম এলাকায়, যা বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে।
এই ঘাঁটিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রায় ১,৫০০ সদস্য অবস্থান করবেন, যার মধ্যে থাকবে বিশেষ বাহিনী ‘প্যারা এসএফ ইউনিট’।
সূত্র অনুযায়ী, এই ঘাঁটি সীমান্ত এলাকায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া, নজরদারি ও উচ্চ প্রভাবযুক্ত ট্যাকটিক্যাল অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভারতের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম. রাওয়াত বলেন,
“এই নতুন স্টেশন স্থাপন আঞ্চলিক অপারেশনাল সক্ষমতা ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ।”
🔹 বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট
ভারতের সাবেক পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) রানা প্রতাপ কালিতা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন,
“তামুলপুর, রাঙ্গিয়া ও গৌহাটি ছাড়িয়ে পশ্চিম আসামে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কোনো স্থায়ী ঘাঁটি নেই। ধুবড়ি এলাকায় ঘাঁটি স্থাপন কৌশলগতভাবে প্রয়োজনীয় ছিল।”
তিনি আরও বলেন,
“এই নতুন ঘাঁটি আসামে বাংলাদেশ সীমান্তের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থিত। এটি লজিস্টিক ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর জন্য সুবিধাজনক হবে।”
বর্তমানে আসামে বাংলাদেশ সীমান্তের সবচেয়ে কাছাকাছি সেনাঘাঁটি হচ্ছে শিলচরের মাসিমপুর, যা সীমান্ত থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে।
তুলনামূলকভাবে, ধুবড়ির এই নতুন ঘাঁটি বাংলাদেশের সীমান্তের অনেক কাছাকাছি অবস্থান করছে— যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।