দিরাইয়ে একের পর এক গুলাগুলি: প্রশ্ন উঠছে—অস্ত্র আসে কোথা থেকে?

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় একের পর এক বন্দুকযুদ্ধ ও গোলাগুলির ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জেলায়। যে কোনো দ্বন্দ্বই এখন মোড় নিচ্ছে অস্ত্রবাজির দিকে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—কোথা থেকে আসছে এসব আগ্নেয়াস্ত্র, কারা পৌঁছে দিচ্ছে প্রান্তিক মানুষের হাতে, আর কেন উদ্ধার করা যাচ্ছে না অবৈধ অস্ত্রগুলো?
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিলেট বিভাগের সবচেয়ে আলোচিত জেলায় পরিণত হয়েছে সুনামগঞ্জ। এরই মধ্যে দিরাইয়ে বেড়ে চলা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় আতঙ্কে সাধারণ মানুষ, উৎকণ্ঠায় রাজনীতিকরা, আর চাপের মুখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বৈধ-অবৈধ সব আগ্নেয়াস্ত্র ক্লোজড ঘোষণা করা হয়। তবুও চলতি অক্টোবর পর্যন্ত দিরাই উপজেলায় ছয়টি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় ৫০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১৩০ জন। উপজেলার কুলঞ্জ ও জগদল ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সংঘাত হয়েছে।
গত শুক্রবার দুপুরে কুলঞ্জ ইউনিয়নের কুলঞ্জ গ্রামে ইউপি সদস্য মাহবুব চৌধুরী ও সাবেক সদস্য এলাইস মিয়ার অনুসারীদের মধ্যে সংঘাত বাঁধে। একপর্যায়ে তা ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে রূপ নেয়। এতে গুলিবিদ্ধ ৯ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শনিবার সকালে এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে পুলিশপ্রধান বাহারুল আলম সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন চান। অন্যদিকে উপজেলার দুই সম্ভাব্য সংসদপ্রার্থী—বিএনপির সাবেক বিচারপতি মিফতাহ্ উদ্দিন চৌধুরী রুমি ও জামায়াতের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির—অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য, জমি-বিষয়ক বিরোধ ও ব্যক্তিগত শত্রুতাকে কেন্দ্র করে অস্ত্র ব্যবহার বেড়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতিতেও এই অস্ত্রের ঝনঝনানি বাড়ছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর দিরাইয়ের রায়বাঙ্গালী গ্রামে সরকারি মাদ্রাসার ফান্ড নিয়ে বিলুপ্ত কমিটির সভাপতির লোকজন ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক আহত হন।
এক বছরের ব্যবধানে দিরাইয়ে একই ধরনের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি প্রশাসন ও জননিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।