সর্বশেষ
মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ বিরোধী নেতাদের আটকসাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে জামায়াতের বিবৃতিপ্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিটে ছাড়, লাউঞ্জ সুবিধা ও ভূমি সেবায় অগ্রাধিকারস্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে ফিলিস্তিনজুড়ে উল্লাস, গাজায় আনন্দ মিছিলবাবাকে হজে পাঠানোর স্বপ্ন দেখা সুজনের পাশে প্রধানমন্ত্রী, পড়াশোনার দায়িত্ব নিল সরকারপ্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি ও ছেলেদের নামে বিতর্কিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন।শরিকদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে নেই জমিয়ত।বিশ্বকাপ জিতে ৪৮১ কোটি টাকা পুরস্কার পাচ্ছে স্পেন, রানার্সআপ আর্জেন্টিনার প্রাপ্তি ৩১৭ কোটিমোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ বিরোধী নেতাদের আটকসাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে জামায়াতের বিবৃতিপ্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিটে ছাড়, লাউঞ্জ সুবিধা ও ভূমি সেবায় অগ্রাধিকারস্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে ফিলিস্তিনজুড়ে উল্লাস, গাজায় আনন্দ মিছিলবাবাকে হজে পাঠানোর স্বপ্ন দেখা সুজনের পাশে প্রধানমন্ত্রী, পড়াশোনার দায়িত্ব নিল সরকারপ্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি ও ছেলেদের নামে বিতর্কিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন।শরিকদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে নেই জমিয়ত।বিশ্বকাপ জিতে ৪৮১ কোটি টাকা পুরস্কার পাচ্ছে স্পেন, রানার্সআপ আর্জেন্টিনার প্রাপ্তি ৩১৭ কোটি
Live Bangla Logo
নিউজ
পড়া হচ্ছে...

পুলিশের ভিকটিম ব্লেইম, অপরাধ লঘু করার চেষ্টা?

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৫
পুলিশের ভিকটিম ব্লেইম, অপরাধ লঘু করার চেষ্টা?

বাংলাদেশ পুলিশের এই পোস্টটি আইনি দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি গুরুতর সমস্যা চোখে পড়ে, যা পুলিশের নিরপেক্ষতা, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং ভিকটিমের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তোলে।

নিচে ধাপে ধাপে সমালোচনা করছি, যা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন—বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এবং পেনাল কোড, ১৮৬০—এর ভিত্তিতে।

পুলিশের পোস্টে উল্লিখিত ঘটনাটি একটি ১৩ বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে, যা আইনত ধর্ষণের অভিযোগ হিসেবে গণ্য হয়, কিন্তু পোস্টে এটিকে “প্রেমের সম্পর্ক” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য।

১. শিশুর “সম্মতি” বা “প্রেমের সম্পর্ক” কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার: আইনি লঙ্ঘন এবং ভিকটিম ব্লেমিং
পুলিশের পোস্টে বলা হয়েছে যে মেয়েটির সাথে জয় কুমার দাসের “প্রেমের সম্পর্ক ছিল” এবং সে “ইতিপূর্বে দুইবার… পালিয়ে যায় এবং স্বেচ্ছায় ফিরে আসে”। এটি সরাসরি ভিকটিমকে দোষারোপ করে, যেন তার “স্বেচ্ছা” ঘটনাকে বৈধ করে তোলে। কিন্তু বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৯(১) অনুসারে, ১৬ বছরের নিচের কোনো শিশুর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা—সম্মতি থাকুক বা না থাকুক—ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হয়। 6 এখানে সম্মতির কোনো ভূমিকা নেই, কারণ শিশুরা আইনত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা রাখে না।

পেনাল কোডের ধারা ৩৭৫-এও বলা আছে যে, ১৪ বছরের নিচের মেয়ের সাথে যৌন সম্পর্ক সম্মতি সত্ত্বেও ধর্ষণ। 5 9 তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রাধান্য পায় এবং বয়সসীমা ১৬ করে, যা এই কেসে প্রযোজ্য। 7

পুলিশের এই বর্ণনা আইনের স্পিরিট লঙ্ঘন করে, কারণ এটি অভিযুক্তের পক্ষে কথা বলে এবং ঘটনাকে হালকা করে। এমন পোস্ট তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সমাজে ভিকটিম ব্লেমিংকে উস্কে দেয়, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত। ধারা ৯-এর অধীনে এটি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অপরাধ, কিন্তু পোস্টে “ধর্ষণ” শব্দটিও ব্যবহার করা হয়নি—যা ঘটনার গুরুত্বকে অস্বীকার করে। 4

২.
পোস্টে বলা হয়েছে “ঘটনাটিতে কোন সাম্প্রদায়িক সংশ্লেষ নাই”, কিন্তু পুলিশ নিজেই বলছে তদন্ত চলমান, এমন করে পুলিশ নিজেই “অসত্য বয়ানে প্রকাশ” এর অভিযোগকে উস্কে দিচ্ছে। এটি আইন প্রয়োগে পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত দেয়।

৩.
তদন্ত চলমান হলেও পোস্টে অভিযুক্তের পক্ষে বর্ণনা: প্রক্রিয়াগত লঙ্ঘন
পুলিশ জানিয়েছে যে মামলা দায়ের হয়েছে এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিন্তু “তদন্ত চলমান” বলে সত্ত্বেও পোস্টে ঘটনাকে “পালিয়ে যাওয়া” এবং “স্বেচ্ছায় ফিরে আসা” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি তদন্তের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এবং অভিযুক্তের পক্ষে একতরফা বয়ান দেয়।

ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড (CrPC) এর ধারা ১৫৪-১৭৩ অনুসারে, পুলিশের উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত করা, না যে পাবলিক পোস্টে অভিযোগের বিপরীতে কথা বলা। এমন পোস্ট ভিকটিমের অধিকার লঙ্ঘন করে এবং আইনি প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে, বিশেষ করে যখন মামলাটি তিনজনের বিরুদ্ধে (যা গ্যাং রেপের ইঙ্গিত দেয়)। ধারা ৯(৩) অনুসারে গ্যাং রেপের শাস্তি আরও কঠোর। 0

৪.
সোশ্যাল মিডিয়ায় “বিভ্রান্তি” এর অভিযোগ: পুলিশের দায়িত্বশীলতার অভাব
পুলিশ বলেছে যে সোশ্যাল মিডিয়ায় “অসত্য বয়ানে প্রকাশ করায় বিভ্রান্তি তৈরী হচ্ছে”। কিন্তু তাদের পোস্ট নিজেই অসম্পূর্ণ এবং পক্ষপাতদুষ্ট, যা আরও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

পুলিশের উচিত ছিল আইনি ভিত্তিতে ঘটনাকে ধর্ষণ হিসেবে স্বীকার করে তথ্য দেওয়া, না যে ভিকটিমের “প্রেম” বা “পালানো” কে হাইলাইট করা। এটি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, ২০১৮-এর ধারা ২৫-এর অধীনে মিথ্যা তথ্য প্রচারের মতো হয়ে যায়, যদিও পুলিশের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ না হলেও, এটি তাদের দায়িত্বশীলতার লঙ্ঘন।

সারাংশে, পুলিশের এই পোস্ট আইনের সঠিক ব্যাখ্যা না করে শিশু অধিকার লঙ্ঘন করে এবং সমাজে ধর্ষণের সংস্কৃতিকে উস্কে দেয়। পুলিশের উচিত ছিল নিরপেক্ষভাবে তথ্য দিয়ে থাকা এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের পক্ষে কথা না বলা। এমন সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুলিশকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে।