সিলেটের ১৯ আসনে বিএনপির ৮০ প্রার্থী, সম্ভাব্যদের ঢাকায় তলব করেছেন মির্জা ফখরুল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ পাঁচ নেতার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে খসড়া প্রার্থী তালিকা তৈরির কাজ প্রায় শেষ করেছে। সিলেট বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে অন্তত ৮০ জন নেতা মনোনয়নের দাবিদার হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এতে প্রার্থী জট তৈরি হয়েছে বিভাগজুড়ে। এ পরিস্থিতিতে আগামী রোববার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের সব মনোনয়নপ্রত্যাশীকে নিয়ে বৈঠকে বসবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৈঠকে প্রতিটি আসনের প্রার্থীদের সাংগঠনিক অবস্থা, জনসম্পৃক্ততা ও মাঠপর্যায়ের অবস্থান বিশ্লেষণ করা হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় কমিটি প্রাথমিক খসড়া তালিকা চূড়ান্ত করবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট-৪ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, “এটি দলের অভ্যন্তরীণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। বিভাগের সব সম্ভাব্য প্রার্থীই এতে অংশ নেবেন। দল বড়, তাই মনোনয়নপ্রত্যাশীও বেশি। তবে বিভাজন নয়, ধানের শীষের পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।”
সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামাল জানান, দলের পক্ষ থেকে তাঁকে বৈঠকের বিষয়ে জানানো হয়েছে, এবং তিনি তাতে অংশ নেবেন।
কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপি এবার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়া ব্যবহার করছে। ডিজিটাল ডাটাবেজ ও অনলাইন স্ক্রুটিনি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রার্থীদের অতীত কার্যক্রম, ভোটার সংযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবস্থান ও সাংগঠনিক রিপোর্ট যাচাই করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে চায় দলটি।
সিলেটের একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে— প্রতিটি আসনে কেবল একজন প্রার্থীই চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবেন। পাশাপাশি আগ্রহীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থিতা ঠেকাতে তারেক রহমান এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
দলের শীর্ষ নেতাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর ও যাচাইকৃত প্রার্থী বাছাইয়ের মাধ্যমে বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে শক্তিশালীভাবে মাঠে নামবে। বর্তমানে তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতিটি বিভাগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী, তিনি নিজে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের তদারকি করছেন; মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেট ও খুলনা বিভাগ, নজরুল ইসলাম খান রাজশাহী ও রংপুর, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন কুমিল্লা ও বরিশাল এবং সালাহউদ্দিন আহমেদ ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন।