ট্রাইব্যুনালে সাবেক মন্ত্রীদের মুখোমুখি: ইনুকে সাহস দিলেন দীপু মনি, শাজাহান খানের ক্ষোভ প্রকাশ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর কাঠগড়ায় আজ বুধবার এক বিরল দৃশ্যের জন্ম হয়। সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির মধ্যে হয় আবেগঘন কথা বিনিময়।
ইনু বলেন, “আপনাদের সঙ্গে সম্ভবত আর দেখা হবে না। আমার মামলা ট্রাইব্যুনাল-২ এ নিয়ে গেছে।”
জবাবে দীপু মনি তাকে সাহস দিয়ে বলেন, “চিন্তা করবেন না ভাই। আল্লাহ ভরসা। বুকে বল রাখেন, মনোবল হারাবেন না।”
দু’জনের এই কথার মধ্যেই সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলে ওঠেন, “এভাবে ওঠানো-নামানোর নাটক কবে শেষ হবে এদের।”
বুধবার সকালে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাত মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ১৬ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কেরানীগঞ্জ, কাশিমপুর ও নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় তাদের আনা হয়।
বেলা সোয়া ১১টার দিকে একে একে সবাইকে এজলাসকক্ষে নেওয়া হয়। কাঁচঘেরা কাঠগড়ার সামনে চেয়ারে বসেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তার পাশে আমির হোসেন আমু, কামরুল ইসলাম ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। মাঝের সারিতে বসেন দীপু মনি, পেছনে ইনু ও কামাল মজুমদার।
পরে মামলার নতুন তারিখ নির্ধারণ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থাকে আরও দুই মাস সময় দেয়। পরবর্তী শুনানির জন্য ৮ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
এদিন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলম, সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম, সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সালমান এফ রহমান ও প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে দুপুরে তাদের ফের কারাগারে নেওয়া হয়।
এর আগে, গত ২০ জুলাই তদন্তে আরও তিন মাস সময় চেয়ে আবেদন করে চিফ প্রসিকিউটর দফতর। সে সময় আজকের দিন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আগামী ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ায়।