অবৈধভাবে এশিয়ার বৃহত্তম ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরনী গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে এশিয়ার সর্ববৃহৎ ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরনীকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান এবং ডিএমপির উত্তরা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ। এর আগে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান জানান, ঢাকার সিআইডির বিশেষ দল রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে হরিদাস চন্দ্র তরনীকে হেফাজতে নেয়। তার বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া মানিলন্ডারিং আইনের একটি মামলায় পলাশবাড়ী পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হরিদাস চন্দ্র তরনী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচিত ছিলেন। ধর্মকে পুঁজি করে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ জানান, রোববার রাতে তরনীর বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা হয়েছে। মামলাটি সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম টিম তদন্ত করছে এবং তারা তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে ওই মামলায় জামিন পেয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ফিরে তিনি মূর্তি নির্মাণ ও ধর্মের নামে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া এক সময় তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম গ্রহণ করেছিলেন এবং সুমি ইসলাম নামে এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন বলেও জানা গেছে।