
সিলেটজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহের মধ্যে দীর্ঘ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগর ও উপজেলার বাসিন্দারা। বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যসেবা। দিন-রাতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ।
শহর, সদর, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা ও ওসমানীনগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক এলাকায় রাতেও একাধিকবার লোডশেডিং হওয়ায় স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও ভ্যাপসা গরমে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও পানির পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাসাবাড়িতে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ীরাও বলছেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে দোকান, রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানে কাজের গতি কমে গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, চলমান গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার সময় লেখাপড়া করতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীরা বেশি বিপাকে পড়ছেন। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এমপিদের। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত কোনো সময়সূচি ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পরিকল্পনা করে দৈনন্দিন কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে চাহিদা বৃদ্ধি, উৎপাদন ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজন এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু এলাকায় সাময়িক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা তীব্র গরমের সময় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।