ছয় মাস পর খুলল পাগলা মসজিদের ১৩ দানসিন্দুক, মিলেছে ৪৩ বস্তা টাকা

দীর্ঘ ছয় মাস পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানসিন্দুক আবারও খোলা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের নেতৃত্বে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানসিন্দুক খোলার কার্যক্রম শুরু হয়।
দানসিন্দুক খুলে ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া মিলেছে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার। বর্তমানে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় ইলেকট্রনিক গণনাযন্ত্রের মাধ্যমে টাকার হিসাব-গণনার কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, অর্থ গণনার কাজে মোট ৫৭৮ জন দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে পাগলা মসজিদ নূরানী কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ১০৬ জন শিক্ষার্থী, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাগলা মসজিদের ৩৫ জন স্টাফ এবং সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন। দিনভর এই গণনা কার্যক্রম চলবে।
তিনি আরও জানান, দানসিন্দুক থেকে অর্থ সংগ্রহ, গণনা এবং রূপালী ব্যাংকে জমা দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমানে পাগলা মসজিদের নামে রূপালী ব্যাংকে প্রায় ১৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে। এবার দানসিন্দুক থেকে মোট কত টাকা পাওয়া গেছে, তা গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর দানসিন্দুক খোলা হয়েছিল। সেদিন দানসিন্দুক থেকে রেকর্ড ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীর একটি চরে এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধক বসবাস করতেন। তার মৃত্যুর পর সেখানে একটি মসজিদ নির্মিত হয়, যা পরবর্তীতে পাগলা মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। মানুষের বিশ্বাস, এখানে মানত করলে মনের আশা পূরণ হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের মানুষ এ মসজিদে দান করে থাকেন। সময়ের সঙ্গে দানের পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এবারও নতুন রেকর্ড গড়ে কি না, তা জানা যাবে গণনা শেষে।