নাটোরে সরকারি হাসপাতালে শিশুর মাকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ; তিন সুইপারের বিরুদ্ধে মামলা

নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তিন সুইপারের বিরুদ্ধে। শিশুর জন্য ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজন হলেন— অমিত (২৩), অনিল (২৩) ও প্রাঙ্গন (২৪)। তারা হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত সুইপার বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী নাটোর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর দুই বছর বয়সী কন্যাশিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৫ জুন তাকে নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটির বাবা পেশায় অটোচালক। গত ৮ জুন সকাল ১০টার দিকে তিনি হাসপাতালে এসে স্ত্রী ও সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরে তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী ও সন্তানকে হাসপাতালের নার্সদের থাকার একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। সেখানে গিয়ে তার স্ত্রীর কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা জানতে পারেন।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, গত ৭ জুন সকাল ১০টার দিকে শিশুর জন্য ওষুধ দেওয়ার কথা বলে হাসপাতালের স্টাফ পরিচয়ে সুইপার অমিত তাকে ডেকে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় নিয়ে গিয়ে অপর দুই সুইপার অনিল ও প্রাঙ্গনের সহযোগিতায় তাকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় অন্য দুইজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
শিশুটির মা ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে নার্সরা তার খোঁজ শুরু করেন। পরে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এরপর আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করেন।
হাসপাতালের দায়িত্বরত আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানার পর তারা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় সংশ্লিষ্টদের পাওয়া যায়। এরপর তাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথমে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে বিষয়টি স্বীকার করে বলে তিনি দাবি করেন।
আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. মন্নাফ হোসেন জানান, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, অমিত তাকে ধর্ষণ করেন এবং অন্য দুইজন ভিডিও ধারণ করেন। পরে তারাও একই ধরনের চেষ্টা করলেও হাসপাতালের লোকজন এসে পড়ায় তারা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর কেন অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়নি— এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. আরশেদ আলী সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনসুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নাটোরের পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক বলেন, বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।