
ফেনীতে বিএনপির ভেতরে থাকা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলতে গিয়ে তাদের ‘পিটিয়ে মেরে ফেলার’ আহ্বান জানিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন জয়নাল আবদিন।শনিবার বাদ আসর ফেনী জেলা কেন্দ্রীয় বড় মসজিদে শহীদ
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ফেনী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি জয়নাল বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর মানুষ নতুন প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। সরকার দুর্নীতি দমন ও উন্নয়নে মনোযোগী হলেও দলের ভেতরে গা-ঢাকা দিয়ে থাকা কিছু ব্যক্তি চাঁদাবাজিতে জড়িত, যার কারণে সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সততার সঙ্গে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার করেছেন, কিন্তু কিছু ব্যক্তির চাঁদাবাজিতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে বলেন, চাঁদাবাজদের সবাই চেনে, তাদের যেখানে দেখা যাবে সেখানে সবাই মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ সময় তিনি ‘পিটিয়ে মেরে ফেলার’ কথাও উল্লেখ করেন, যা উপস্থিতদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে দেওয়া তার আরেকটি বক্তব্যে সংসদের স্পিকার সম্পর্কেও বিরূপ মন্তব্য করা হয় বলে জানা গেছে। এ নিয়ে উপস্থিত জনতার একাংশ সমর্থনসূচক প্রতিক্রিয়া জানালেও অন্যরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মী তার বক্তব্যকে বিদ্বেষপ্রসূত বলে মন্তব্য করেন। তাদের অভিযোগ, সংসদ সদস্য হওয়ার পর তিনি দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করছেন না এবং ঢালাওভাবে সবাইকে চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বিএনপির নেতাদের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, যদি চাঁদাবাজদের বিষয়ে তার কাছে তথ্য থাকে, তাহলে প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, এয়াকুব নবী, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারি, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিনসহ দলীয় নেতারা।
মিলাদ ও দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। পরে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করেন।