প্রধানমন্ত্রী এমপিদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তিনিই বিপদে পড়বেন: কর্নেল অলি

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে শেষ পর্যন্ত তিনিই বিপদে পড়বেন। তিনি মনে করেন, এমপিদের মূল দায়িত্ব আইন প্রণয়ন করা, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করা নয়।
পাবলিক পাবলিক ইনভেস্টিগেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কর্নেল অলি আহমদ এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মোট ১৮৩ জন এমপি একটি ‘সংসদীয় ক্যু’ বা অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেছিলেন। সে সময় তাঁকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রথমে আগ্রহী হলেও পরে তিনি সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি বলেন, “আমি প্রথম দুই দিন রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু তৃতীয় দিনে আর রাজি হইনি। আমি বলেছিলাম, এমন বেইমানি ও মুনাফেকি আমি বেগম জিয়ার সঙ্গে করতে পারব না।”
ছয়বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও তিনবারের মন্ত্রী কর্নেল অলি আরও দাবি করেন, ওই সময় সংসদে একটি বিল আনার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছিল।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে কিছু মন্ত্রীর বিরোধিতার কারণে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর এমপিদের সামাল দেওয়ার অনুরোধ করব। তিনি যদি সামাল দিতে না পারেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীই বিপদে পড়বেন।”
তিনি আরও বলেন, এমপিদের সঙ্গে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা প্রশাসনের নিরপেক্ষতার জন্য ক্ষতিকর। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি অনুচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্নেল অলি আহমদের মতে, প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা গেলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জনপ্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি বা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। “এ ধরনের পাঁচ-দশজন এমপিকে জেলে দিলে কোনো রাজনৈতিক দলেরই ক্ষতি হবে না,” যোগ করেন তিনি।