খুলনায় ভাড়া বাসা থেকে নানি ও কিশোর নাতির মরদেহ উদ্ধার, আরেক নাতি নিখোঁজ

খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে এক নারী ও তাঁর দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার সন্ধ্যায় সোনাডাঙ্গা থানার তমিজউদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন বেবি বেগম (৫৫), তাঁর নাতি শামীম ব্যাপারী (১৩) ও মুস্তাকিম (৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের দিকে বাসাটির একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে সোনাডাঙ্গা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিবি ও সিআইডির সদস্যরাও। এ সময় বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, নিহত শামীম ও মুস্তাকিম ফাতেমা বেগমের প্রথম পক্ষের সন্তান। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ফাতেমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল ইসলাম এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
পুলিশ জানায়, প্রথমে বেবি বেগম ও শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজ থাকা মুস্তাকিমের খোঁজ করতে গিয়ে কক্ষের একটি ওয়ারড্রোবের তালা ভেঙে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলামের বাড়ি নগরের দৌলতপুর থানার মানিকতলা এলাকায়। তিনি পেশায় ট্রাকচালক। ঘটনার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে তদন্তে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে ফাতেমা বেগমের সঙ্গে তাঁর প্রথম স্বামী মাসুম ব্যাপারীর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর দুই সন্তান মায়ের সঙ্গেই বসবাস করছিল।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় ফাতেমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।