পাবনায় জামাত নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, থানার সামনে বিক্ষোভ পাবনা-৩ আসনের এমপির।

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে জিল্লুর রহমান (৫০) নামের এক জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের দাশমরিচ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলী আছগার দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভাঙ্গুড়া থানা চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন।
জামায়াত নেতাদের দাবি, আবদুর রহমান নামের স্থানীয় এক বিএনপি কর্মী তাঁর সহযোগীদের নিয়ে এই হামলা চালান। কিন্তু পুলিশ ঘটনায় দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
আহত জিল্লুর রহমান দাশমরিচ গ্রামের বাসিন্দা ও খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি। তিনি পেশায় শিক্ষক।
খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল কালাম বলেন, গতকাল সকালে জিল্লুর রহমানকে দেখে আবদুর রহমান বিভিন্ন কটূক্তি করেন। ‘কিরে কোথায় বেহেশতের টিকিট বেচতে যাস?’—এমন কথা বলেন। এ সময় জিল্লুর রহমানের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি আবদুর রহমানকে চড় দেন। এতে ক্ষিপ্ত হন আবদুর রহমান। ঘটনার পর থেকে তিনি লোকজন নিয়ে জিল্লুর রহমানকে খুঁজতে থাকেন। রাত আটটার দিকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় জিল্লুরকে একা পেয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানান, ঘটনার খবরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। এ সময় পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলী আছগার দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় যান। তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে থানার সামনে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন।
জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আলী আছগর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার নেতাকে কুপিয়ে মৃতপ্রায় করে ফেলা হয়েছে। তাই খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ থানায় দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি।’
খানমরিচ ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আবদুর রহমান নামের ওই ব্যক্তি ছাত্রদল তথা বিএনপির কোনো কর্মী নন। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে এই প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।’
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, ‘আহতের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে আমরা বিষয়টি অবগত হয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।’