স্বামীকে ৬ টুকরা করে হত্যা, ধরা পড়ার পর বললেন জীবনে একটা পিপড়াও মারিনি।

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর লাশ টুকরো করে কয়েকদিন ড্রাম ও ফ্রিজে সংরক্ষণের অভিযোগে আসমা আক্তার নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে আসমা স্বামী জিয়া সরদারকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
নিহত জিয়া সরদার সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, মোবাইল ফোনে পরিচয়ের পর প্রায় আট বছর আগে আসমার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এটি দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। দেশে ফেরার পর তারা শরীয়তপুর শহরের চন্দ্রপুর বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। গত ১২ মে রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা লোহার রড দিয়ে জিয়ার মাথায় আঘাত করেন। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরে লাশ গোপন করতে দেহ টুকরো করে বিভিন্ন অংশ আলাদা করে ড্রাম ও ফ্রিজে রাখা হয়। শুক্রবার রাতে অটোরিকশায় করে লাশের বিভিন্ন অংশ শরীয়তপুর পৌরসভার আটং এলাকা ও নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীরসংলগ্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন আসমা পুরোনো ভাড়া বাসার একটি ফ্রিজে মাংস রাখার চেষ্টা করেন। এ সময় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আসমাকে আটক করে এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা রানু বেগম বলেন, আসমা পচা মাংস ফ্রিজে রাখতে এলে তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়। এতে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
নিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, প্রবাসে থাকা অবস্থায় জিয়া আসমাকে বিয়ে করেছিলেন। দেশে ফেরার পর তারা আলাদা বাসায় থাকতেন। তাঁর ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
আসমা আক্তার পুলিশের কাছে দাবি করেন, স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। ঘটনার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি রড দিয়ে আঘাত করেন। পরে আতঙ্কিত হয়ে লাশ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, অভিযুক্ত নারী হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাথাসহ হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় তদন্ত চলছে।