চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক দুজনকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিলেন বিএনপি নেতা

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক দুই তরুণকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লার উপস্থিতিতে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভাঙ্গা থানায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক দুই ব্যক্তি হলেন ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী মহল্লার বাসিন্দা ও সাবেক কাউন্সিলর লিয়াকত মোল্লার ছেলে শোয়েব মোল্লা (২৯) এবং কাফুরিয়া সদরদী মহল্লার বাসিন্দা শাহী মুন্সির ছেলে সোহান মুন্সি (২৮)। স্থানীয়ভাবে তারা বাসস্ট্যান্ড ও টেম্পোস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘বিএনপি করলে চাঁদাবাজি করেও মুক্তি মেলে’ শিরোনামের ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ভাঙ্গা থানার একটি কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতিতে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে আলোচনা করছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা।
ভিডিওতে ওসি মিজানুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি সোহান মুন্সির বাবার কাছে জানতে চান, ভবিষ্যতে ছেলেরা কোনো অপরাধ করলে তার দায়দায়িত্ব তিনি নেবেন কি না।
একপর্যায়ে ওসি আইয়ুব মোল্লার উদ্দেশে বলেন, তিনি কেন থানায় এসেছেন এবং কী করতে চান। জবাবে আইয়ুব মোল্লা বলেন, আটকরা তাদের এলাকার ছেলে। তারা কোনো ভুল করে থাকলে সংশোধনের চেষ্টা করা হবে এবং ভবিষ্যতে অপরাধ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা হবে।
ওসি তখন বলেন, কোনোভাবেই চাঁদাবাজি বা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে দায়দায়িত্ব নিতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
থানায় গিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে আনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন আইয়ুব মোল্লা। তিনি দাবি করেন, বাস ও টেম্পোস্ট্যান্ডে কাউন্টারকেন্দ্রিক বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ তাদের ধরিয়ে দেয়। তার ভাষ্য, “আমরা রাজনীতি করি। তারা আমাদের এলাকার ছেলে। একটি দলে ভালো-মন্দ সব ধরনের মানুষ থাকে। তাই ওসিকে বলেছি, আমরা সংশোধনের চেষ্টা করব।”
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে না চাইলেও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু। তিনি বলেন, ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় যানবাহন থেকে ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা তোলার অভিযোগে ওই দুজনকে আটক করা হয়েছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকায় বিএনপি নেতা ও পরিবারের সদস্যদের মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে থানার অভ্যন্তরের ভিডিও কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।